নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় দায়ী মার্ক্সবাদীরা, সোমবারই চাঁচাছোলা ভাষায় বামেদের আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে এও জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে তিনি একেবারেই পছন্দ করেন না। এবার যাদবপুরের দখল নেওয়া কীভাবে সম্ভব? তৃণমূল ছাত্র সংগঠনকে (TMCP) মন্ত্র দিলেন তৃণমূল নেত্রী। ক্ষমতায় এসে কমবেশি সব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ই তৃণমূলের দখলে গেলেও, যাদবপুর আজও ব্যতিক্রম। তৃণমূলের ইউনিট থাকলেও সেখানে বামেদের লাল পতাকা আজও উড্ডীন। এবার যাদবপুরের দখল নিতে নেত্রী ঠিক কী বার্তা দিলেন?
আরও পড়ুন: ঘটনার রাতে পুলিশ হস্টেলে ঢুকতে পারেনি, যাদবপুরকাণ্ডে দায়ের নতুন FIR
যাদবপুরের প্রথম বর্ষের ছাত্রের অকালমৃত্যুতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এই ঘটনার সুবিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। চুপ নেই তৃণমূল ছাত্র সংগঠনও। বুধবারও দিনভর যাদবপুর ৮-বি বাসস্ট্যান্ডে ধর্নায় বসবে তৃণমূলপন্থী ছাত্রছাত্রীরা। এবার মুখ্যমন্ত্রী দলের যুব নেতাদের বিশেষ বার্তা দিলেন। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, যাদবপুর ইস্যু নিয়ে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাতে হবে তৃণমূল ছাত্র সংগঠনকে। বলা হয়েছে, বাংলাকে বঞ্চনার প্রতিবাদে গত মে মাসে রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে ধর্না হয়েছিল, সেভাবেই যাদবপুর এইট বি-তে টিএমসিপির বিক্ষোভ হবে।

জানা গিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিজেদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে তৃণমূল ছাত্র সংগঠন। উপস্থিত থাকবেন উঠতি নেত্রী রাজন্যা হালদার। থাকার কথা ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসের মতো পরিচিত নেতাদের। প্রতিবাদী স্লোগান, পথনাটিকা, গানের মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাবে তৃণমূল। আর এই সব পরিকল্পনাই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

১৯৮৪ সালে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বর্ষীয়ান নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে রাজনৈতিক মহলে দাপটের সঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ নিজের সেই কেন্দ্র, সেই কেন্দ্রেই অবস্থিত যাদবপুরের মতো রাজ্যের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আর যান না তিনি। সোমবার সে কথা জানিয়ে দিয়েছেন নেত্রী। ঠিক কী বলেছেন মমতা?

মমতার বয়ানে, “এরা মার্কসবাদী। বড় বড় কথা বলছে। কখনও বিজেপি, কংগ্রেসের সঙ্গে ঘর করছে। তৃণমূল ওদের এক নম্বর শত্রু। বোধ বলে কিছু নেই। আবেগ, বিবেক নেই। ওখানে পুলিশ ঢুকতে দেয় না। সিসিটিভি লাগাতে দেয় না। যাদবপুর আতঙ্কপুর হয়ে গিয়েছে। আমি দুঃখিত, স্তম্ভিত। আমি সব জায়গায় গেলেও যাদবপুরে যাই না। ওরা পড়াশোনায় ভাল হতে পারে, কিন্তু শুধু পড়াশোনায় ভাল হলে হয় না। সবাই খারাপ না, পড়ুয়ারা ভাল। কিন্তু কয়েকটা আগমার্কা সিপিএম আছে। তাঁরা মনে করে নতুন ছেলেমেয়েরা গ্রামবাংলা থেকে আসলেই অত্যাচার করা অধিকার, জামাকাপড় খুলে নিচ্ছে। লজ্জা নেই”।
কীভাবে দখল নিতে হবে যাদবপুর? তৃণমূল ছাত্র সংগঠনকে মন্ত্র দিলেন মমতা




