উত্তরবঙ্গের সাম্প্রতিক ভূমিধস ও বন্যার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ফের ৫ দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমেই তিনি যাবেন হাসিমারায়, সেখান থেকে আলিপুরদুয়ার ও পরে দার্জিলিং সফর করবেন বলে জানা গিয়েছে।
কিছুদিন আগেই টানা বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একাধিক জেলায় বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ঘরবাড়ি, রাস্তা এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক তৎপরতা পর্যালোচনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

হাসিমারা ও আলিপুরদুয়ার সফর:
সফরের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে হাসিমারায় প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন। এরপর যাবেন আলিপুরদুয়ারে। সেখানেই স্থানীয় প্রশাসন ও ত্রাণবন্টনের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করবেন তিনি। বিশেষত, ক্ষতিগ্রস্তরা ঠিকভাবে সরকারি ত্রাণ পেয়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী। ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে কোনও গাফিলতি হচ্ছে কি না, সে দিকেও কড়া নজর থাকবে তাঁর।
দার্জিলিং সফর:
মঙ্গলবার দার্জিলিং যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড়ে ভূমিধস ও বৃষ্টিজনিত দুর্যোগের প্রভাব স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনে গভীরভাবে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা সরাসরি শুনবেন।
প্রশাসনিক তৎপরতা:
উত্তরবঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসের পর থেকেই রাজ্য প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। ত্রাণ শিবির, খাদ্য সরবরাহ, ওষুধ এবং পুনর্বাসনের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি সফরের ফলে ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে প্রশাসনের একাংশের আশা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গে নিয়মিত সফরের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মাটিতে নেমে পরিস্থিতি বোঝার বার্তা দিচ্ছেন। দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার এই কৌশল রাজ্য সরকারের জনসংযোগের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।






