এসআইআর আবহে মালদা থেকে মমতার আশ্বাস, ‘ভয় পাবেন না, পাশে আছি’

মালদহের সভায় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা— এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক নয়, সতর্কতা প্রয়োজন

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

এসআইআর আবহে উত্তেজনা ছড়ানো পরিস্থিতির মধ্যেই মালদহে সভা থেকে সরাসরি আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্টভাবে বললেন, রাজ্যের মানুষকে ভয় পেতে হবে না। এসআইআর আবহ পুরোপুরি ‘রাজনৈতিক ভয় দেখানোর কৌশল’— এই মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন, ভোট চাইতে নয়।

সভা মঞ্চ থেকে মমতার পরিষ্কার বার্তা— রাজ্যের প্রত্যেক বাসিন্দা যেন এসআইআরের ফর্ম ঠিকভাবে পূরণ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফর্ম না ভরলে নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পরিযায়ী শ্রমিক থেকে সাধারণ মানুষ— সবার উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের নির্দেশ মেনে নির্ভয়ে ফর্ম জমা দিন। এই বক্তব্যে এসআইআর আবহ নিয়ে মানুষের মধ্যে ছড়ানো আতঙ্ক কমানোর চেষ্টা স্পষ্ট।

এসআইআর আবহে মালদা থেকে মমতার আশ্বাস, ‘ভয় পাবেন না, পাশে আছি’

একই সঙ্গে মালদহের সভা থেকে ওয়াকফ আইন নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে কারও সম্পত্তি দখল করতে দেওয়া হবে না। ওয়াকফ আইন বিজেপি সরকার তৈরি করেছে, তার অন্যায় প্রয়োগ মেনে নেবে না রাজ্য। তাঁর ভাষায়, “এখানে কারও জমিতে হাত দিতেই দেব না।’’

সভায় কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যে অর্থ বঞ্চনা করছে। তাঁর কথায়, করের সমস্ত টাকা চলে যাচ্ছে দিল্লিতে, অথচ রাজ্যকে তার ন্যায্য অংশ দেওয়া হচ্ছে না। মমতা জানান, প্রায় এক লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রের কাছে বকেয়া পড়ে আছে। এই আর্থিক বঞ্চনার মধ্যেও রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে— যা মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।

মমতা সতর্ক করেন, কেন্দ্র যদি জোর করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়, তবে এই আচরণ ‘জরুরি অবস্থার’ স্মৃতি জাগায়। তিনি বলেন, “আজ ক্ষমতায় আছ, কাল থাকবে না— মানুষ সব দেখছে।” তাঁর দাবি, দেশজুড়ে সবকিছু দখল করতে চাইছে বিজেপি সরকার, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরোধী।

মমতার বক্তব্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল এসআইআর নিয়ে মানুষের মন থেকে ভয় দূর করা। তিনি জানান, ডিটেনশন ক্যাম্পে কোনও নাগরিককে যেতে হবে না, কোনও বৈধ ভোটারের নামও বাদ যাবে না। এসআইআর চালুর তাড়াহুড়োকে তিনি নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা বলেও উল্লেখ করেন।

সভা মঞ্চ থেকেই তিনি অভিযোগ তোলেন, এসআইআর-এর পিছনে রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পরিকল্পনা। তাঁর মতে, চক্রান্ত করে মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায় না, রাজ্যের মানুষ চুপ করে থাকবেন না।

মমতার এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। মালদহের মতো সীমান্তবর্তী জেলায় এসআইআর আবহ ঘিরে উদ্বেগ বেশি, তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাস রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে।
সভা শেষে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কৌশলকে আরও স্পষ্ট করে দিল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত