পাহাড়ে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নিয়োগে কেন্দ্রকে চিঠি মমতার, শুভ দীপাবলি জানিয়েও কটাক্ষ মোদিকে

দার্জিলিং পাহাড়ে কেন্দ্রের ইন্টারলোকুটর নিয়োগে রাজ্যকে অন্ধকারে রাখার অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত বলেও মন্তব্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পাহাড়ে ‘মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ’ ঘিরে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। দার্জিলিং পাহাড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারলোকুটর বা সমন্বয় রক্ষাকারী নিয়োগ নিয়ে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করা হয়নি।

মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ায় তিনি বিস্মিত ও ব্যথিত। তাঁর অভিযোগ, “এই ধরনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। এতে পাহাড়ের শান্তি ব্যাহত হতে পারে।”

চিঠিতে মমতা বলেন, জিটিএ-র আওতায় থাকা দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্সের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা রাজ্যের দায়িত্ব। সেখানে স্থায়ী সমাধান ত্রিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়া সম্ভব নয়। অথচ রাজ্যকে কিছু না জানিয়ে সেখানে একতরফা ভাবে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নিয়োগ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের প্রাক্তন উপ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস পঙ্কজ কুমার সিংহকে দার্জিলিং ও তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলের ইন্টারলোকুটর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। লক্ষ্য— গোর্খাদের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া নিয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

পাহাড়ে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নিয়োগে কেন্দ্রকে চিঠি মমতার, শুভ দীপাবলি জানিয়েও কটাক্ষ মোদিকে

পাহাড়ে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নিয়োগে কেন্দ্রকে চিঠি মমতার, শুভ দীপাবলি জানিয়েও কটাক্ষ মোদিকে
পাহাড়ে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নিয়োগে কেন্দ্রকে চিঠি মমতার, শুভ দীপাবলি জানিয়েও কটাক্ষ মোদিকে

কিন্তু এই নিয়োগের আগে নবান্নের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা হয়নি বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে তিনি রাজ্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করাফেডারেল কাঠামোয় আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন।

গোর্খাল্যান্ডের দাবি নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই গোর্খা সংগঠনগুলির দাবি— পাহাড়, তরাই-ডুয়ার্স ও উত্তরবঙ্গের কিছু অংশ নিয়ে আলাদা রাজ্য গঠন করা হোক। তবে ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী আলাদা গোর্খাল্যান্ড গঠন কার্যত অসম্ভব। সেই কারণে ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় বেশি স্বায়ত্তশাসন চেয়ে আসছেন গোর্খারা।

বিজেপি ২০০৯ সাল থেকে এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনের আগে পাহাড়বাসীদের আশ্বাস দিয়েছে, তাদের দাবি পূরণে কেন্দ্র উদ্যোগী হবে। সেই আস্থায়ই পাহাড়বাসীরা গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ী করে আসছেন। কিন্তু বাস্তবে বড় কোনও সাফল্য মেলেনি।

এই সময়েই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ইন্টারলোকুটর নিয়োগকে রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছে তৃণমূল শিবির। তাদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে পাহাড়ের ইস্যুকে উসকে দিতে চাইছে কেন্দ্র।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও বিশ্বাসের পরিপন্থী। এতে পাহাড়ে অশান্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।”

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, পঙ্কজ কুমার সিংহের নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে পদক্ষেপ প্রত্যাহার করতে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ের ইস্যুতে কেন্দ্র-রাজ্যের এই সংঘাত আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কেন্দ্রের পদক্ষেপের জবাবে রাজ্য কী কৌশল নেয়, এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন