নজরবন্দি ব্যুরোঃ টাকা নিলেও ভোট দেবেন না BJPকে, পাপ হবে! বিষ্ণুপুরে হুঁশিয়ারি মমতার। হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা বলে শুধু মিথ্যে স্বপ্ন দেখায় বিজেপি, আর মূর্তি ভাঙে বাংলায় গতকালই পুরুলিয়ায় কটাক্ষ করেছিলেন মমতা। আজ ফের বাঁকুড়ায়। হুইলচেয়ারে বসেই জঙ্গল মহল দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক সভা করছেন ঝাড়গ্রাম থেকে পুরুলিয়া। নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তে বুস্টার ডোজ দিচ্ছেন নিজের কর্মী সমর্থকদের। যাঁরা ভরসা রেখেছেন মমতা তে। এবং আরো স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন আগামী ৫ বছরের জন্য কেনো মমতা? সোমবার বাঁকুড়ায় জনসভা করেছেন, মঙ্গলবার করবেন পুরুলিয়ায় মোট তিন বিধানসভা কেন্দ্রে তিনটি সভা করে আজ ফের বাঁকুড়ায় সভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ জঙ্গলমহলে ঘাসফুল ঝড় আটকাতে শেষবেলায় একসাথে প্রচারে শাহ-মিঠুন।
এদিকে বুধবার মমতার সভার কিছু আগেই মেদিনীপুরের কাঁথিতে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই সভা থেকে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারকে নানা বিষয়ে আক্রমণ করেন তিনি। কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ থেকে বিওহিরাগত ইস্যু তুলে আক্রমণ করেন মমতাকে। নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গে মোদী বলেন, ‘সারা দেশের সামনে নন্দীগ্রামকে অপমান করেছেন দিদি’। এমনকি ‘২ মে দিদি যাচ্ছে’ বলে স্লোগানও দেন। স্বাভাবিক ভাবেই তার পরেই বাঁকুড়ার সভা থেকে মোদীর কথার পয়েন্ট ধরে জবাব দিলেন মমতা।
একেবারে প্রথম দিনেই নির্বাচন আছে পুরুলিয়ার সবকটি আসন এবং বাঁকুড়ার ৪টি আসনে।। তার আগে একেবারে শেষমুহূর্তের বার্তা দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কয়েকদিন আগেই তৃণমূল প্রকাশ করছে নিজেদের ইস্তেহার। কী কী থাকছে সেই ইস্তেহারে সেকথাও আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। শিক্ষার জন্য ক্রেডিট কার্ড, জামিন ছাড়াই। মহিলাদের হাতে টাকা। আরও মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হবে। ১০০ দিনের কাজকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া হবে। বিনা পয়সায় খাদ্য দেওয়া হবে। অগাস্ট সেপ্টেম্বরে দুয়ারে সরকার হবে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করে নেবেন। ৫ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে। তফশিলিদের জন্য ৬০ বছরের উপরের মানুষরা পাচ্ছেন ১ হাজার টাকা করে, এছাড়াও তৃতীয় বার তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলে কী কী সুবিধা পাবেন তারও তালিকা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিষ্ণুপুরে সভার শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী শহরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নিয়ে ভূয়সী প্রসংশা করেন। তার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দেন, “বালুচরি শাড়ি আগে কাগজের মতো ছিল, আমি ওই শাড়ি আরও নরম করার ব্যবস্থা করেছি। বিশ্বের বাজারে আরও কদর বেড়েছে বালুচরির। বিষ্ণুপুরের সমস্ত প্রাচীন পুঁথি ডিজিটাইজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন সংস্কৃতিই আসলে সোনার খনি। ডিজিটাইজ হলে সেই সোনার খনি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। আগেও বিষ্ণুপুরের ঘোড়া ও পট শিল্পীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নতি হবে। আমি যা বলি করে দেখাই। বললেন মমতা।”
একদিকে মেদিনিপুরে দাঁড়িয়ে মোদী যখন বলছেন, দেশের সকলেই নিজেদের, বহিরাগত কিসের, সেই প্রসঙ্গেও পাল্টা উত্তর দিলেন মমতা। তাঁর মতে,”বাংলায় ভিন রাজ্য থেকে যারা আসে তাঁদের বহিরাগত বলি না। যারা শুধু ভোটের আগে আসে, তাদের বহিরাগত বলি।” এছাড়াও কাজের প্রসঙ্গে বলেন, ১০০ দিনের কাজ ২০০ দিনের কাজ হবে, বললেন মমতা। জঙ্গলমহলে রোজ রক্ত ঝড়ত। এখন বলুন তো জঙ্গলমহলে মানুষ মরছে। বাঁকুড়া ভাল আছে তো? জঙ্গলমহলে ৪০ হাজার ছেলেমেয়েকে চাকরি করে দিয়েছি। যাতে তাঁরা মূলস্রোতে ফিরে আসেন। এসেছেনও। যা বলেছি তা করে দেখিয়েছি। এছাড়াও তিনি বলেন মণ্ডল কমিশনে যাঁদের নাম আছে তাঁদের জন্য আলাদা কমিটি হবে।
টাকা নিলেও ভোট দেবেন না BJPকে, পাপ হবে! বিষ্ণুপুরে হুঁশিয়ারি মমতার। টাকা দিয়ে ভোট কেনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “টাকা দিলে নেবেন কি নেবেন না আপনার ব্যাপার। ওটা আপনার টাকা। তবে টাকা নিলেও ভোট দেবেন না। ওরা বলতে পারে, ‘কোথায় ভোট দিচ্ছিস, দেখতে পাব’। মিথ্যে কথা। কিচ্ছু দেখতে পাবে না। তাই যদি বলে খরচ দিচ্ছি। ওদের খরচ করে দেবেন। ভোটটা জোড়া ফুলেই দেবেন।” তিনি আরও বলেন, ‘২৯১ টা সিটে আমাকেই ভোট দেবেন। তবেই তো আপনাদের বিনামূল্যে চাল দিতে পারব। সুবিধা দিতে পারব। আমাকে চাইলে জোড়া ফুলে ভোট দিন।’’ফুল একটাই। মাটি মানে ঘাস। ঘাস মানে জোড়াফুল। আর সেই জোড়াফুলেই ভোটটা দেবেন বলে অনুরোধ করেছেন তিনি।



