নজরবন্দি ব্যুরোঃ রিস্ক নিলেন না দলনেত্রী, এই ঘটনা আঁচ করা হয়েছিল আগেই। মুকুল রায় কৃষ্ণনগরে বসে অসংলগ্ন কথা বলার পর গোটা তৃণমূল যখন ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছিল তখন থেকেই দলের ভেতরেই গুঞ্জন চলছিল কী হবে মমতা-মুকুল সফরের ভবিষ্যৎ।
আরও পড়ুনঃ নাম বদল করেছেন আগেই, এবার ‘বাংলার বাড়ি’র লোগো আঁকলেন খোদ মমতা
কথা ছিল আজকের জঙ্গলমহল সফরে মমতার সফর সঙ্গী হবেন মুকুল রায়। ঘর ওয়াপসির পর থেকে নতুন ইনিংস শুরু করেছিলেন ভালো ভাবেই। তৃণমূল সুপ্রিমোও একে একে দায়িত্ব দিচ্ছিলেন তাঁর কাঁধে। তবে মাঝখানে সুর কেটেছেন রায়সাহেব নিজেই। গত সপ্তাহে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে বসে মুকুল রায় বলে যান, ‘কৃষ্ণনগরে উপনির্বাচন হলে তৃণমূল পর্যূদস্ত হবে। বিজেপি স্বমহিমায় ফিরে আসবে।’
তাঁকে পাশ থেকে বারবার শুধরে দেওয়ার চেষ্টা হলেও তিনি একই কথা বলেন। পরে যতক্ষণে তিনি শুধরেছেন নিজের কথা ততক্ষণে নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর সেই বক্তব্য। তার পর থেকেই ব্যাপক অস্বস্ত্বিতে পড়েছে গোটা দল। বিব্রত তৃণমূল নেমেছিল ড্যামেজ কন্ট্রোলে।
মুকুলের আত্মগ্লানি, তবুও রিস্ক নিলেন না দলনেত্রী
কেউ কেউ বলেছিলেন গত কয়েকমাসে দল বিয়োগ থেকে পত্নী বিয়োগের একের পর এক ধাক্কায় মন ভালো নেই রায় সাহেবের। শারীরিক এবং মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত তিনি। কারো কারো মত ছিল পটাশিয়াম-সোডিয়ামের ভারসাম্য বিগড়ে যাওয়ার ফলে গতকাল অসংলগ্ন কথা বলে ফেলেছেন। কোন পক্ষ বলছে নিজে জিতলেও ‘রাজনীতির চাণক্য’ মর্যাদা নিয়ে নিজের পুত্রকেই ভোটে জেতাতে না পারার আক্ষেপ যায়নি মন থেকে। সব মিলিয়ে তাঁদের সবার যুক্তি এক, ‘শরীর-মন ভালো নেই দাদার’।
পুত্র শুভ্রাংশু জানিয়েছিলেন ‘‘মায়ের চলে যাওয়ার ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি বাবা। তার প্রভাব পড়েছে ওঁর শরীরে।” তবে সমস্ত কিছুর মাঝে সকলের শরীর ভালো নেই তত্ব উড়িয়ে মুকুল রায় নিজেই জানিয়েছিলেন, ‘‘শরীর আমার ঠিকই আছে। কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু যেটা হয়েছে সেটা হওয়া উচিত নয়।’’
প্রশ্ন উঠেছিল তখনই এই পরিস্থতিতে রায় সাহেবকে নিয়ে যে প্রকার বিব্রত হয়েছে দল তাতে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সফর সঙ্গী হিসেবে নিয়ে যাবেন মুকুল কে, দলের নেতারা বলেছিলেন দিদি যা করবেন তাই হবে। তবে কেউ কেউ বলছিলেন এই মুহুর্তে মুকুল রায় আবার যদি বেফাঁস কিছু বলে বসেন…রিস্ক কি নেবেন মমতা? সকলে তাকিয়ে ছিলেন মাঝের শনি-রবি বারের দিকে। তবে শনি-রবি পেরিয়ে সোম সকালে দেখা গেল আশঙ্কা সত্যি হয়েছে একাংশের। মুকুল রায়কে নিয়ে আর কোন প্রকার রিস্ক নিলেন না সুপ্রিমো। একাই গেলেন জঙ্গলমহলে।



