বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্রকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ ভারতের চলচ্চিত্র জগৎ। সোমবার নিজ বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। গত কয়েকদিন ধরে শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে একের পর এক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। একসময় ভেন্টিলেশনে থাকা নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ায়। যদিও পরিবারের তরফে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও মন্তব্য করা হয়নি। পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে—ধর্মেন্দ্র প্রয়াত। তাঁর শেষকৃত্য হবে মুম্বইয়ের ‘পবনহংস’ শ্মশানে।
এই বেদনাদায়ক মুহূর্তে সামনে আসে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া—ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতার বার্তা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে ধর্মেন্দ্র এমন এক শিল্পী, যার অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক বিশাল ক্ষতি।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা ধর্মেন্দ্রের সিনেমা-ঐতিহ্যের গুরুত্ব আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল।


‘তাঁর অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে’, ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ মমতা
গত ১৫ দিন ধরেই চলছিল উদ্বেগ। শোনা যাচ্ছিল অভিনেতার স্বাস্থ্যের ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। কখনও দাবি উঠেছিল, তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে, আবার কখনও বলা হয়েছিল যে তথ্য ভুয়ো। হেমা মালিনি হাসপাতাল পৌঁছনোর পরই অনুরাগীদের চিন্তা আরও বাড়ে। সানি দেওলের সহকারী জানিয়েছিলেন—অবস্থা উদ্বেগজনক নয়। কিন্তু সোমবার ঘটল অপ্রত্যাশিত—ব্যক্তিগত বাসভবনে শেষ হয় তাঁর জীবনযাত্রা।

ধর্মেন্দ্রর শেষযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী হেমা মালিনী, কন্যা ঈশা দেওল, দুই পুত্র সানি ও ববি দেওল। এছাড়াও উপস্থিত হন অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, আমির খান, সলমন খানসহ বলিউডের প্রায় সমস্ত প্রথম সারির মুখ। প্রযোজক-পরিচালক করণ জোহার লিখেছেন, “একটা যুগের অবসান ঘটল।”
এই প্রতিটি প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করছে—ভারতীয় সিনেমার যে অধ্যায় ধর্মেন্দ্র লিখেছিলেন, তা আর কখনও পুনর্নির্মাণ সম্ভব নয়।


দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘শোলে’, ‘ধরম-ভীর’, ‘সীতা অউর গীতা’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘গোঁপি’, ‘কতি পতঙ্গ’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’—প্রায় প্রতিটি ছবিতেই তিনি প্রমাণ করেছেন বহুমুখী প্রতিভা। তাঁর পর্দার ক্যারিশমা, সংলাপ বলার ধরন, এবং নির্মল ব্যক্তিত্ব তাঁকে করেছে বলিউডের এক অদ্বিতীয় নায়ক।
এ কারণেই ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতার বার্তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক শোক নয়—এটি একটি যুগের সাংস্কৃতিক অধ্যায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। মমতার কথায়, “ধর্মেন্দ্রজির প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। পরিবার, পরিজন, অনুরাগীদের প্রতি আমার সমবেদনা।”
ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে দেশজুড়ে যে আবেগ ভেসে উঠছে, তা প্রমাণ করে তিনি শুধু নায়কই নন—তিনি ছিলেন মানুষের হৃদয়ের অংশ। ভক্তদের চোখে তিনি সাহস, সরলতা ও মানবিকতার প্রতীক।
পবনহংস শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পরও তাঁর স্মৃতি, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি এবং তাঁর অগণিত চরিত্র ভারতীয় দর্শকের মনে অমর হয়ে থাকবে। বলিউড হয়তো আবার সিনেমা বানাবে, নতুন তারকা উঠবে, কিন্তু ধর্মেন্দ্রর শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়। একটা যুগ সত্যিই শেষ হলো।








