নজরবন্দি ব্যুরো: নন্দীগ্রামের দেওয়ালে ফুটছে প্রার্থী মমতার নাম! বাংলায় চলছে নবান্ন দখলের লড়াই। কে বসবেন বাংলার মসনদে তাই নিয়ে হিসেব কষছেন রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ সবাই। এসব নিয়ে বাংলার উত্তেজনার পারদ যখন সবথেকে ওপরে,ঠিক তখনই নিজের মাস্টারস্ট্রোক দিলেন তৃণমুলের সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়। গতকাল ১৮ই জানুয়ারি উত্থান ভূমি নন্দীগ্রামে সভা ছিল মমতার। সেখানে দাঁড়িয়ে আন্দোলন থেকে আবেগের কথা বলতে গিয়েই তিনি প্রশ্ন ছোড়েন জনতাকে,” ২১এর বিধানসভায় নির্বাচন থেকে দাঁড়ালে কেমন হয়?”
আরও পড়ুনঃ ‘তিনি কিংবদন্তি’, সৌমিত্র-র জন্মদিনে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মুখ্যমন্ত্রীর


তার পরই সরাসরি ঘোষণা করেন, ৭ বারের জিতে ফেরা ভবানীপুর কেন্দ্র ছেড়ে মমতা এবার প্রার্থী হবেন নন্দীগ্রাম থেকে। দরকার পড়লে উভয় কেন্দ্র থেকেই ভোট লড়বেন তিনি। মমতার এই মন্তব্যের পরই বিরোধী শিবির থেকে নানা রকম মন্তব্য উঠে আসলেও, ওয়াকিবহল মহল কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে তাঁর একুশের নির্বাচনের মাস্টার স্ট্রোক হিসেবেই ধরছেন। এই ভোটের আগে ভাঙন ধরেছে তৃণমুলের ঘরে।
প্রথম ঘর ছেড়েছিলেন ঘরের বিশ্বস্ত সদস্য শুভেন্দু অধিকারী,সাথে নিয়ে গেছেন একাধিক নেতা কর্মীকে। তারপর থেকে এখনো থামছে না তৃণমুলের ভাঙন। ভোটের আগে এহেন পরিস্থিতি ভাবাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। যেখানে শুভেন্দু কে বলা হয় নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র, সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি যোগের পর প্রথম প্রশ্ন ছিল নন্দীগ্রাম এবার কার? তৃণমুলের নাকি বিজেপির? সেই সমীকরণ আরো স্পষ্ট করতেই কি নিজেকে নন্দীগ্রামের প্রার্থী করলেন মূখ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন যাই উঠুক না কেনো,নন্দীগ্রাম কিন্তু দেখাচ্ছে অন্য ছবি।
মমতার সিদ্ধান্তের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা হয়নি এখনো, কিন্তু নন্দীগ্রাম দেখাচ্ছে আবেগ। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়াল লিখন। এখনো রাজ্যে তৃণমূল বা বিরোধী শিবিরের ২৯৪ টি আসনের প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়নি। কাজেই ব্যাক্তি প্রচারও শুরু হয়নি এখনো বাংলা জুড়ে। গতকাল নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ‘ লাকি ‘ নন্দীগ্রাম থেকে লড়ার কথা জানিয়েছিলেন মমতা। আর ইতিমধ্যেই সাদা দেওয়ালে নীল রঙে ফুটে উঠছে মমতার ঘোষণার কথা। “২১ এর নির্বাচনে নন্দীগ্রাম বিধানসভার প্রার্থী ” মমতা বন্দোপাধ্যায়।


অন্যদিকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া ব্রিগেড। সূত্রের খবর শুভেন্দু অধিকারী প্রাথমিক ভাবে লড়াইয়ের জন্যে কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্র কে বেছে নিলেও দল চাইছে তিনি নন্দীগ্রামেই দাঁড়ান। দলের প্রচ্ছন্ন বার্তা পেয়ে এদিন নন্দীগ্রামে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ট্যুইটে তিনি বলেছেন, ২১ বছর সাথে ছিলাম, এবার মুখোমুখি লড়াই।








