নজরবন্দি ব্যুরোঃ আমার একটা পা গেছে, এখানের মায়েদের দু’পায়ে প্রণামঃ কেশিয়াড়ীতে মমতা। কিছুক্ষণ আগেই গড়বেতা থেকে মমতা বলেছিলেন এই নির্বাচন বাংলার, আমি আপনাদের পাহারাদার, দুর্ঘটনা হলেও টাকা দিই। শুধু বিজেপির নয়, এই মুহুর্তে রাজ্যের সকল দলই পাখির চোখ করেছে জঙ্গলমহলকে। নিজেদের ঘাঁটি শক্ত করতে ব্যাক টু ব্যাক সভা করছেন নেতা মন্ত্রীরা। এই পরিস্থিতিতে হুইলচেয়্যারে বসেই জঙ্গল মহলে সভা করছেন রাজ্যের আহত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকালই জঙ্গল মহলে সভা করেছেন তিনি। কাল বিকেলেই তৃণমূলের তরফ থেকে প্রকাশিত হয়েছে দলের নির্বাচনী ইস্তেহার। এর পর আজ ফের গড়বেতার পর কেশিয়াড়ীতে সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ এই নির্বাচন বাংলার, আমি আপনাদের পাহারাদার, দুর্ঘটনা হলেও টাকা দিইঃ গড়বেতায় মমতা।
গত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৫ টি আসনের মধ্যে জোড়া ফুল শিবির জিতেছিল ১৩ টি আসন। কিন্তু গল্প ঘুরে যায় লোকসভা নির্বাচনে গিয়ে, তৃণমূলের ঘাড়ের পাশ দিয়ে উঠে আসে বিজেপি। দলের সংগঠন ঠিক করার জন্য গত দু’বছর ধরে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী সাংগঠনিক সময় দিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরে। রাজনৈতিক মহলের মতে একেবারে সাধারণ মানু্ষেরও ঘর অবধি পৌঁছে গেছে ইস্তাহারের সেই সুবিধা। এবার সেই পথ ধরেই নির্বাচনে তৃণমূলের জমি আরও শক্ত করতে বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের তিন জায়গায় সভা রয়েছে মমতার। তার প্রথম সভা করছেন গড়বেতা থেকে।গড়বেতার সভার পর মুখ্যমন্ত্রী সভা করছেন কেশিয়াড়ীতে।
গড়বেতায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে এসেছে নন্দীগ্রামের মানুষের ওপর আবার মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা। তিনি জানিয়েছেন বিজেপি একটা সর্বনাশা রাজনৈতিক দল। বাইরে থেকে বাস-ট্রেনে করে লোক এনে যদি ভয় দেখায় বিজেপি, রুখে দাঁড়াবেন। নন্দীগ্রামে কৃষি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করছে। ওঁদের বিরুদ্ধে যদি মামলা হয়, বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কেন মামলা হবে না? বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বারবার বাংলা আসার প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, ভোট এলেই ক্যাশ নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। হাজার হাজার নেতা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বাইরে থেকে বিমানের পর বিমানে চেপে আসছেন। বিমানের পর বিমান ভোট লুটের চেষ্টা করছেন।আমপানের সময় কোথায় ছিল বিজেপি, কোথায় ছিলেন নরেন্দ্র মোদী, ভোটের সময় টাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। এলেই হাতা-খুন্তি নিয়ে তেড়ে যাবেন। ঘরের দুয়ারে সাপ লুকিয়ে থাকে, বাঘ লুকিয়ে থাকে, তাদের ঢুকতে দেওয়া যাবে না।
গড়বেতার পর কেশিয়াড়ীর সভায় মমতা শুরুতেই বলেন, “আমার একটা পা গেছে, এখানের মায়েদের দু’পায়ে প্রণাম।” রোদে এতদূর থেকে আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ২০০ কোটি খরচ করে তৈরি সেতুতে ৯০ কিলোমিটার রাস্তা এখন ৪৫ কিলোমিটারে পরিণত হয়েছে, রাস্তাঘাটের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেছেন। কটাক্ষ করেছেন স্থানীয় বিধায়ককে। ভন্ডামী ছাড়া যে তিনি কিছুই দিতে পারেননি একথাও বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন বিজেপি পার্টি ভন্ডামির দোকানদারি, দুর্নিতির ফ্যাক্টরি।শুধু মিথ্যে কথা বলে।
কেশিয়াড়ীর সভা থেকে তিনি কন্যাশ্রী, রুপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, সবুজ সাথী কার্ডের কথাও তুলে ধরেন। বিজেপি বাইরের গুন্ডা পাঠিয়ে বাংলা দখল করতে চায়, কিন্তু তৃণমূল বিনে পয়সায় বিনে পয়সায় রেশন, খাদ্য দিচ্ছে। তাই বাইরের গুন্ডা নয়, বাংলা বাংলাতেই থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও গতকালের তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশের কথা এবং সেখানে যেসব প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে সেসব নিয়েও বলেন তিনি ” মাটির সৃষ্টি প্রকল্পে ২৫০০০ একর অনুর্বর জমিকে উর্বর করার লক্ষ্যমাত্রা। আমি আপনাদের পাহারাদার, দুর্ঘটনা হলেও টাকা দিই।
যারা বলে বাংলায় কিছু হয়নি, বাংলায় ৪০ শতাংশ দারিদ্র কমেছে। আমরা ধ্বংসের বদলে ধ্বংস চাই না। সিপিএমের হার্মাদগুলো বিজেপি-তে গিয়েছে। জঞ্জালের পার্টি বিজেপি। জোচ্চুরির কারখানা জব্দ করতে হলে তৃণমূলকে ভোট দেবেন। সুশান্ত ঘোষকে সবাই চেনে, সবাই জানে। দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠলে ১০ হাজার টাকা অথবা ট্যাব দেওয়া হবে। ৫ লক্ষ কর্মসংস্থান করব আমরা। ক্ষমতায় এলে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে বছরে ১০ হাজার টাকা করে মিলবেআরও ২৫ লক্ষ বাড়ি তৈরি করে দেব দরিদ্র মানুষকে। সব বিধবারা পেনশন পাবেন। আমাদের সরকার থাকলে বিনা পয়সায় রেশন পাবেন আপনারা। ভোট মিটে যাওয়ার পর বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেব। আমরা দুয়ারে সরকার। দুয়ারে রেশন পৌঁছে দেব।। ”



