নজরবন্দি ব্যুরো: দিল্লি সফরে যাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন তিনি। ইতিমধ্যেই মোদীকে চিঠি দিয়ে সময় চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। মহুয়া ইস্যুতে ফের একবার বাংলার শাসক দলের সঙ্গে কেন্দ্র তথা বিজেপি সরকারের সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। এই আবহে মোদী-মমতা সাক্ষাৎ নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু করেছে।
চলতি সপ্তাহেই উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল তাঁর। সেখান থেকে ফিরে রওনা দেবেন দিল্লির উদ্দেশ্যে। শনিবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো জানান দলের কয়েকজন সাংসদকে নিয়ে দিল্লিতে পা রাখবেন তিনি। চলতি মাসের ১৮,১৯,২০ ডিসেম্বরের মধ্যে একদিন সময় চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলার টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। আবাস যোজনা, একশো দিনের কাজের টাকা সহ একাধিক প্রকল্পের টাকা বন্ধ।’ এই রাজ্য থেকে জিএসটি নেওয়া হলেও ভাগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাঁর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘চিঠি দিয়ে সময় চেয়েছি। সময় দিলে ভাল। না হলে যা করার করব।’

মনে করা হচ্ছে, মোদী-মমতার সাক্ষাতে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা প্রসঙ্গ উঠে আসবে। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্নভাবে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়েছেন। একাধিক সভায় তাঁকে এনিয়ে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিরে বিশাল কর্মসূচি করেছিলেন। এবারে দিল্লিতে রাজ্যের বকেয়া নিয়ে জট কাটানোই বাংলার প্রশাসনিক প্রধানের মূল লক্ষ্য হতে পারে।

নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১৭ ডিসেম্বর দিল্লি যেতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকবে। ১৮,১৯,২০ তারিখ একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। ২১ তারিখ কলকাতায় ফিরে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কবে মমতার বৈঠক সেবিষয়ে এখনও জানা যায়নি।
মোদীর সময় চেয়ে দিল্লি সফরে Mamata Banerjee, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও থাকছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি যাওয়ার নেপথ্যে মূল উদ্দেশ্য ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। ১৮, ১৯, ২০ ডিসেম্বরের মধ্যেই এই বৈঠক হওয়ার কথা। লোকসভার আগে এই বৈঠককে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেই খবর। গত ৬ ডিসেম্বর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন। সেইসময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এই বৈঠকের বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। যদিও পরে ওইদিনের বৈঠক বাতিল করতে হয়।



