‘ভাষার উপর আক্রমণ হলে রুখে দাঁড়াব’—মাতৃভাষা দিবসে বার্তায় ভাষা রক্ষার শপথ মমতার

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। সব ভাষার প্রতি সমান সম্মান ও মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আবেগঘন প্রেক্ষাপটে ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিনরাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা এবং বাংলার মনীষীদের অপমানের অভিযোগ ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত, ঠিক সেই সময় ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সরব হয়ে ভাষার উপর যে কোনও আক্রমণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করলেন তিনি।

নিজের X (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, বাংলা ভাষা শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সুকান্ত ভট্টাচার্য বা জীবনানন্দ দাশের ঐতিহ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—সব ভাষার প্রতিই সমান সম্মান দেখানোই তাঁর সরকারের নীতি। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর আমলেই হিন্দি, সাঁওতালি, কুরুখ, কুড়মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরী, পাঞ্জাবি ও তেলুগু ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাদরি ভাষার উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Shamim Ahamed Ads

মমতা আরও জানান, বিভিন্ন ভাষার বিকাশে হিন্দি অকাদেমি, রাজবংশী ভাষা অকাদেমি, কামতাপুরী ভাষা অকাদেমি ও সাঁওতালি অকাদেমি গঠন করা হয়েছে। রাজ্যের প্রত্যেক ভাষাভাষী মানুষের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও তিনি দাবি করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার মূল সুর ছিল ভাষাগত সহাবস্থান ও সম্মানের আহ্বান। তিনি লেখেন, “একুশের এই পুণ্যদিনে আবার অঙ্গীকার করছি—যেকোনও ভাষার উপর আক্রমণ এলে আমরা সবাই মিলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। সকল ভাষাই সমানভাবে সম্মাননীয়।”

মাতৃভাষা দিবসে বার্তায় ভাষা রক্ষার শপথ মমতার

প্রসঙ্গত, ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। ১৯৫২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামেন ছাত্র-যুবরা। ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও মিছিল বের হলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ বহু তরুণ। তাঁদের আত্মবলিদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালিরা এই দিনটি ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে পালন করেন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মাতৃভাষা দিবস।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত