নজরবন্দি ব্যুরোঃ একাধিক নিয়োগ দুর্নীতিতে জেরবার রাজ্যের শাসক দল। শাসক দলের দুই প্রথম সারীর নেতা এই মুহুর্তে জেলে। এরই মধ্যে নিয়মিত আক্রমণ শানানো হচ্ছে বিরোধীদের তরফে। বিরোধী শিবিরের কথায়, বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত টাকা ঘুরপথে চলে যায় কালীঘাটে। যা নিয়ে এবার বিন্দুমাত্র পিছু হটতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি আক্রমণ শানালেন বিরোধীদের বিরুদ্ধে। টাকা কার কাছে যাচ্ছে? প্রশ্ন তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ Partha-Arpita: মঞ্জুর হল না জামিনের আবেদন, ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পার্থ-অর্পিতা
এদিন তিনি বলেন, কয়লা পাচার, গরুপাচারের সব টাকা নাকি কালীঘাটে যাচ্ছে! কার কাছে যাচ্ছে, মা কালীর কাছে? নামটা বলুন না একটু! কার কাছে যাচ্ছে? কয়লা কার অধীনে? গরু কার অধীনে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে। কেন্দ্র সাহায্য চাইলে করতে পারি। এর বাইরে দায়িত্ব নেই আমাদের।

মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর বুধবার নবান্নের সভাঘরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, আমি আগেও বলেছি, সমাজসেবা করতে রাজনীতিতে এসেছি আমি। নইলে এই ধরনের নোংরা রাজনীতি থেকে অনেক আগেই বিদায় নিতাম। এই ধরনের ব্ল্যাকমেলিংয়ের রাজনীতি পছন্দ করি না আমি। কুৎসা, অসত্য, অকথ্য ভাষায় কথা বলা, মানুষকে সম্মান না দেওয়া, ব্ল্যাকমেলিংয়ের রাজনীতি শুরু হয়েছে। বলছে টাকা না দিলে পোল খুলব! পোল কী! ভষাটাই আমার জানা নেই।
এদিন আরও একবার সরাসরি আক্রমণ শানালেন সিপি(আই)এমের রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, জেনেশুনে কোনও অন্যায় করিনি। মৃতদেহও দেখতে যাই না আমি। ভয় পাই। প্রমাণ ছাড়াই কেন অমর্যাদাকর কথা বলছেন? বিকাশবাবুদের বলছি, আপনাদের আমলে জন্মের শংসাপত্র কীভাবে দেওয়া হয়েছিল? আমার পরিবারকে নোটিস পাঠালে আইনতই লড়ব। কিন্তু পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূলকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে।
টাকা কার কাছে যাচ্ছে? প্রশ্ন তুললেন মমতা নিজেই

গরু পাচার প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি অনেক থেকেই বাইরের রাজ্য থেকে গাড়ি নিয়ে আসা বন্ধ করে দেওয়া দরকার। কোভিডের সময়ও বলা হয়েছিল, গাড়ি আটকানো যাবে না। অনেক দিন তো কাজ করেছেন অনেকে। একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন! আমরা তো ১১ বছর ক্ষমতায় এসেছি। তার আগে কী হয়েছে? এখন তো অনেক কমে গিয়েছে! এখন ময়লা কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেললেই হল! মনে রাখবেন, কিছুদিন মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখা যায়, সবসময় যায় না।



