লিওনেল মেসির উপস্থিতি ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারের ঘটনার পর তিনি মেসির কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানান এবং একই সঙ্গে হতাশ দর্শকদের প্রতিও ক্ষমাপ্রার্থী হন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের ঘটনা বাংলার ক্রীড়াসংস্কৃতি ও আতিথেয়তার পরম্পরার সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়। বিশ্ব ফুটবলের মহান তারকার সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া রাজ্যের পক্ষে লজ্জাজনক বলেই মন্তব্য করেন তিনি।


ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কীভাবে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ঘটল, কার দায়িত্বে গাফিলতি ছিল—সব দিক খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
একই সঙ্গে আয়োজকদের ভূমিকাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এত বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় যে ঘাটতি ছিল, তার দায় এড়ানো যায় না। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দেন তিনি।
উল্লেখ্য, মেসিকে সরাসরি দেখতে না পেয়ে যুবভারতীতে দর্শকদের একাংশ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ভাঙচুর, বোতল ছোড়া ও ব্যারিকেড টপকে মাঠে নামার মতো ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেডিয়াম ছাড়তে বাধ্য হন লিওনেল মেসি।


রাজ্য সরকারের তরফে তদন্তের নির্দেশ ও প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার পর এখন নজর তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকে। এই ঘটনায় দায়ী কারা, তা স্পষ্ট হওয়াই এখন মূল প্রশ্ন।







