ভোটের আগে পাঁচ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন বোর্ডের ঘোষণা মমতার, রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন সমীকরণ?

মুন্ডা, কোরা, ডোম, কুম্ভকার ও সদগোপ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন বোর্ড গঠনের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। উন্নয়ন উদ্যোগের পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণও আলোচনায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পাঁচটি জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন বোর্ড গঠনের ঘোষণা করেছেন তিনি। মুন্ডা, কোরা, ডোম, কুম্ভকার এবং সদগোপ সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের ভোট সমীকরণকে মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট পাঁচটি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের উন্নতির বিষয়গুলি দেখভাল করবে এই বোর্ডগুলি। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৩ সাল থেকে তৃণমূল সরকার সমাজের আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য একাধিক উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেছে।

যে পাঁচটি জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন বোর্ড গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে মুন্ডা ও কোরা সম্প্রদায় তফসিলি জনজাতি (এসটি) শ্রেণিভুক্ত। ডোম সম্প্রদায় তফসিলি জাতি (এসসি), আর কুম্ভকার ও সদগোপ সম্প্রদায় অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র অন্তর্ভুক্ত।

এই জনগোষ্ঠীগুলির একটি বড় অংশ বসবাস করেন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে—বিশেষ করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে। অন্যদিকে সদগোপ ও কুম্ভকার সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘোষণার পেছনে উন্নয়নের পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বিজেপির সংগঠন তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বলে ধরা হয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। যদিও ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কিছুটা জমি ফিরে পায়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুর আসনে বিজেপির কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। তবে পুরুলিয়ায় বিজেপি নিজেদের দখল বজায় রাখে, যদিও সেখানে তৃণমূলের ভোট শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমাঞ্চলে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত রাখতে চায় তৃণমূল—এমনটাই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কও রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন এবং তাঁকে স্বাগত জানানো নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে বিজেপি।

রাষ্ট্রপতির আদিবাসী পরিচয় সামনে এনে তফসিলি জনজাতির ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে চাইছে বিজেপি—এমন অভিযোগও তুলেছে তৃণমূল। ফলে এই পরিস্থিতিতে আদিবাসী ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের শাসকদল।

ঘটনাচক্রে, এই বিতর্কের আবহেই তৃণমূলের সাংসদেরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তার বিস্তারিত তুলে ধরা। তবে রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, আপাতত এই বৈঠকের জন্য সময় দেওয়া সম্ভব নয়।

সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে ফের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করতে পারে তৃণমূল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর