প্রতি বছরই মকর সংক্রান্তি নিয়ে উৎসাহ থাকে গোটা দেশজুড়ে, আর ২০২৬ সালের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। মকর সংক্রান্তি ২০২৬ কোন দিনে পড়ছে তা নিয়ে বহু মানুষের মনে দোটানা তৈরি হয়েছিল। কারণ পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথির শুরু-শেষ সময়ের উপর ভিত্তি করেই ঠিক হয় পূণ্যকাল ও স্নান-দানের শুভ সময়। ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে এই তিথি নিয়ে আগাম প্রস্তুতি থাকে প্রত্যেকেরই। তাই এবার দেখে নেওয়া যাক ২০২৬ সালে মকর সংক্রান্তি পালনের সঠিক দিন-তারিখ।
হিন্দু ধর্মে মকর সংক্রান্তি একটি অত্যন্ত পবিত্র তিথি। বিভিন্ন রাজ্যে এই উৎসব ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও উৎসবের মূল ভাব এক—সূর্যদেবের উত্তরায়ণ ও নতুন ফসল তোলার আনন্দ। বাংলায় এই দিন পালন করা হয় পৌষ পার্বণ হিসেবে। বিহার ও উত্তরপ্রদেশে খিচড়ি পর্ব, পাঞ্জাব-হরিয়ানায় লোহরি, তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল এবং অসমে এই উৎসব পরিচিত মাঘ বিহু নামে।


মকর সংক্রান্তি ২০২৬ কবে?
মকর সংক্রান্তির মূল আকর্ষণ সূর্যের মকর রাশিতে সংক্রমণ। জ্যোতিষ মতে, এই দিন সূর্য ধনু রাশি ত্যাগ করে মকর রাশিতে প্রবেশ করেন, যেখানে অধিষ্ঠাতা গ্রহ শনি। শাস্ত্র মতে, সূর্য ও শনি পিতা-পুত্র হলেও তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক তীব্র। তাই এই রাশিচক্র পরিবর্তনকে জ্যোতিষশাস্ত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে ধরা হয়।
২০২৬ সালে মকর সংক্রান্তি ১৪ জানুয়ারি, বুধবার পালিত হবে। এই দিনই সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করবেন এবং শুরু হবে পূণ্যকাল, যা স্নান, দান ও পূজা-পার্বণের জন্য অত্যন্ত শুভ সময় হিসেবে মানা হয়। বহু হিন্দু এই সময়ে গঙ্গাস্নান করে পুণ্যলাভ করেন। দেশে বিভিন্ন স্থানে মকর সংক্রান্তিতে গুড়, তিল, খিচুড়ি, শীতবস্ত্র ও কম্বল দানের বিশেষ রীতি আজও প্রচলিত রয়েছে।



২০২৬ সালের পূণ্যকাল দুপুর ২টা ৪৯ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে মহাপূণ্যকাল থাকবে দুপুর ২টা ৪৯ মিনিট থেকে ৩টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত। বিশেষত যারা দান, স্নান বা সংক্রান্তি পূজা করতে চান, তাঁদের কাছে এই সময়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মকর সংক্রান্তি শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, ভারতের কৃষি সংস্কৃতিতেও গভীর প্রভাব ফেলে। এই সময় থেকেই শুরু হয় ফসল কাটার মরশুম। কৃষিজীবী পরিবারগুলির কাছে তাই মকর সংক্রান্তি একটি আনন্দের উৎসব। পাশাপাশি উত্তরায়ণের সূচনা হওয়ায় দিনের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে এবং রাত ছোট হয়—এই পরিবর্তন প্রকৃতি ও মানুষের জীবনধারায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
পুরাণ ও মহাভারতের একাধিক স্থানে মকর সংক্রান্তির উল্লেখ পাওয়া যায়। কিংবদন্তি অনুসারে, এই দিনেই ভীষ্ম পিতামহ শরশয্যায় শয়ান অবস্থায় শরীরত্যাগ করেছিলেন। তাই এই তিথি তপস্যা ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক বলেও বিবেচিত।
মকর সংক্রান্তি ২০২৬ তাই শুধু একটি তারিখ নয়, বরং একটি ঐতিহ্যবাহী মহোৎসব—যা সূর্য, প্রকৃতি, কৃষি এবং আধ্যাত্মিকতার মিলন ঘটায়। আগামী বছরে সঠিক সময় জানার ফলে প্রত্যেকেই আগাম প্রস্তুতি নিতে পারবেন স্নান-দান ও শুভকর্মের।








