বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মহুয়া রায়চৌধুরীর নাম এখনও এক রহস্যের প্রতীক। মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি খ্যাতি আর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। মহুয়া রায়চৌধুরীর রহস্যমৃত্যু নিয়ে আজও বাঙালির কৌতূহল শেষ হয়নি। আত্মহত্যা না খুন—এই প্রশ্নের উত্তর মিলেনি চার দশকেও। এবার সেই অমীমাংসিত কাহিনি বড়পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আসছে নতুন ছবি ‘গুনগুন করে মহুয়া’, যা নির্মাণ করছেন কনিষ্ঠতম পরিচালক সোহিনী ভৌমিক।
সোহিনী জানিয়েছেন, মহুয়া রায়চৌধুরী মানেই শুধু নেতিবাচক সংবাদ নয়। তিনি একজন মা, একজন সংগ্রামী নারী, যিনি স্বল্প সময়ে টলিউডকে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। মহুয়ার জীবন ও মৃত্যুর অদেখা দিক দর্শকদের সামনে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন রানা সরকার।
প্রথম থেকেই এই ছবির নায়িকা নিয়ে জল্পনা ছিল। শোনা গিয়েছিল, হয়তো স্বস্তিকা দত্তকে দেখা যাবে ‘মহুয়া’ হয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ অঙ্কিতা মল্লিককে বেছে নিলেন পরিচালক-প্রযোজক। রানা সরকারের মতে, অঙ্কিতার বয়স ও চেহারা প্রয়াত অভিনেত্রীর সঙ্গে মানানসই। সবচেয়ে বড় কথা, চরিত্রটিকে নিজের করে নেওয়ার প্রবল ইচ্ছে রয়েছে তাঁর।

অঙ্কিতাও এই সুযোগে উচ্ছ্বসিত। ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ফাঁকে তিনি জানিয়েছেন, মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবন নিয়ে তাঁরও অনেক কৌতূহল। তাই ‘মহুয়া’ হয়ে ওঠা তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ এবং গর্বের বিষয়। চলতি বছরের শেষ থেকেই তিনি প্রস্তুতি শুরু করবেন। রূপসজ্জায় থাকবেন সোমনাথ কুণ্ডু, আর পোশাকের দায়িত্বে সাবর্ণী দাস।
মহুয়া রায়চৌধুরীর রহস্যমৃত্যু নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে, যা ছবিতে খোঁজার চেষ্টা করবেন পরিচালক। মহুয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রত্না ঘোষাল আজও বলেন, “ছেলের দুধ গরম করতে গিয়ে মা পুড়ে মারা গেল—এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?” জীবনের যে অবিচার তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল, সিনেমা কি সেই ধুলো মুছে দিতে পারবে?
তবে সোহিনীর বিশ্বাস, এই ছবি কেবল মহুয়ার জীবনকথা নয়, টলিউডের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠবে। বড়পর্দায় ‘গুনগুন করে মহুয়া’ তাই হতে পারে বাংলা সিনেমার এক নতুন মোড়। দর্শকের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী।
এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, ছোটপর্দার শিল্পীরা কেবল ধারাবাহিকেই সীমাবদ্ধ নন, বড়পর্দাতেও তাদের সম্ভাবনা অসীম। অঙ্কিতা মল্লিকের মতো অভিনেত্রীদের হাত ধরে হয়তো নতুন প্রজন্ম মহুয়া রায়চৌধুরীকে নতুন আলোয় দেখবে।



