ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-এর দ্বারস্থ হলেন কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। হাই কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিলেও তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছেন মহুয়া। আগামী সপ্তাহেই মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানা (Hogolberia Police Station)-য় দায়ের হওয়া মামলায় মহুয়া মৈত্রের আবেদন শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Sougata Bhattacharyya) তাঁকে অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, মামলার তদন্ত আইন অনুযায়ী চলবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাংসদকে সহযোগিতা করতে হবে।
হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ অগস্ট বিকেল ৩টায় মহুয়া মৈত্রকে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হতে হবে। আদালত আরও নির্দেশ দেয়, ওই সময় তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের। যাতে থানায় হাজিরার সময় তাঁর দিকে ডিম, পাথর বা অন্য কোনও বস্তু নিক্ষেপ না করা হয় এবং তিনি কোনও ধরনের হেনস্তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে তদন্তকারী সংস্থাকে।
এছাড়াও আদালত জানিয়েছিল, আগামী ৫ অক্টোবর অথবা পরবর্তী কোনও নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মহুয়ার বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে এই অন্তর্বর্তী সুরক্ষার শর্ত হিসেবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে।
এই মামলার সূত্রপাত গত ১ জুলাই। সেদিন নদিয়ায় একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ, তাঁর কনভয়ের দিকে ডিম ও পাথর ছোড়া হয়েছিল। ওই ঘটনার সময় বোরখা প্রসঙ্গে তাঁর করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই মন্তব্য ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে—এই অভিযোগ তুলে হোগলবেড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
হাই কোর্টের নির্দেশে আংশিক স্বস্তি মিললেও তদন্তে হাজিরার নির্দেশ এবং তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতির বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন তৃণমূল সাংসদ। শীর্ষ আদালত এই মামলায় কী নির্দেশ দেয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় তার কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।



