মহাশিবরাত্রি ২০২৬ ভগবান শিবের ভক্তদের কাছে এক গভীর আধ্যাত্মিক রাত। এই বিশেষ তিথিতে উপবাস, জাগরণ ও প্রহরভিত্তিক পূজার মাধ্যমে শিবভক্তরা সারারাত ধরে মহাদেবের কৃপা প্রার্থনা করেন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে শুরু হওয়া এই উৎসবের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হল নিশীথ কাল পূজা—যা রাত ১২:০৯ থেকে ১২:৫৯ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। শাস্ত্র মতে, এই সময়েই ভগবান শিবের আরাধনা সর্বাধিক ফলদায়ী।
মহাশিবরাত্রির রাতকে চারটি প্রহরে ভাগ করা হয়, এবং প্রতিটি প্রহরের রয়েছে নিজস্ব পূজাবিধি ও আচার। ২০২৬ সালে প্রথম প্রহর শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬:১৯ থেকে রাত ৯:২৬ পর্যন্ত। দ্বিতীয় প্রহর চলবে রাত ৯:২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২:৩৪ পর্যন্ত। তৃতীয় প্রহর শুরু হবে রাত ১২:৩৪ থেকে ভোর ৩:৪১ পর্যন্ত এবং চতুর্থ ও শেষ প্রহর চলবে ভোর ৩:৪১ থেকে সকাল ৬:৪৮ পর্যন্ত। শিবভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই চার প্রহরে নিয়ম মেনে পূজা করলে জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয়।


মহাশিবরাত্রি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এর গভীর দার্শনিক তাৎপর্যও রয়েছে। এই দিনটি ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর পবিত্র বিবাহের স্মৃতিবাহী। শিবকে চেতনার প্রতীক এবং পার্বতীকে প্রকৃতির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এই দুই শক্তির মিলন থেকেই সৃষ্টি, শক্তি ও জীবনের উদ্ভব—এই ভাবনাকেই মহাশিবরাত্রি স্মরণ করায়।
পুরাণ অনুসারে, সৃষ্টির সূচনাকালে মহাশিবরাত্রির মধ্যরাতে ভগবান শিব রুদ্র রূপে আবির্ভূত হন এবং রুদ্র তাণ্ডব নৃত্যের মাধ্যমে সৃষ্টি, পালন ও সংহারের চক্র সম্পন্ন করেন। আরেকটি জনপ্রিয় কাহিনিতে বলা হয়, সমুদ্র মন্থনের সময় উৎপন্ন ভয়ংকর বিষ বিশ্ব ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিলে শিব সেই বিষ পান করে সকলকে রক্ষা করেন। তাই এই উৎসব ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও এক পবিত্র সময়।
মহাশিবরাত্রি ২০২৬: উপবাস ও আচার
এই দিনে বহু ভক্ত কঠোর উপবাস পালন করেন। কেউ নির্জলা ব্রত পালন করেন, আবার কেউ ফল ও দুধ গ্রহণ করেন। মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, শস্য ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা হয়। পরদিন সকালে শিবপূজার পর উপবাস ভাঙা হয়।
পূজা ও ধর্মীয় কার্যক্রম
শিবলিঙ্গে দুধ, জল, মধু ও ঘি দিয়ে অভিষেক, বিল্বপত্র ও ফুল অর্পণ, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং “ওম নমঃ শিবায়” মন্ত্র জপ—এসবই মহাশিবরাত্রির মূল আচার। সারা রাত ধরে চার প্রহরে বিশেষ পূজা, কীর্তন, ভজন, শিবপুরাণ পাঠ, ধ্যান ও যোগাভ্যাস এই উৎসবকে আরও মহিমান্বিত করে তোলে। পাশাপাশি দানধ্যান ও দরিদ্রদের সাহায্য করাকে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়।

শিবরাত্রি ও মহাশিবরাত্রির পার্থক্য
শিবরাত্রি প্রতি মাসে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে পালিত হলেও মহাশিবরাত্রি বছরে একবার, ফাল্গুন মাসে আসে। মহাশিবরাত্রির মাহাত্ম্য বেশি, কারণ এই দিনটি শিব-পার্বতীর বিবাহ ও শিবের মহাজাগতিক লীলার সঙ্গে যুক্ত।
উপসংহার
মহাশিবরাত্রি ২০২৬ শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, ভক্তি ও আত্মঅনুসন্ধানের এক পবিত্র সুযোগ। উপবাস, প্রার্থনা ও জাগরণের মাধ্যমে এই রাতে ভগবান শিবের সঙ্গে গভীর সংযোগ অনুভব করেন ভক্তরা। ঘরে বা মন্দিরে—যেখানেই উদযাপন হোক, এই মহাশিবরাত্রি সকলের জীবনে শান্তি ও শক্তি বয়ে আনুক।







