মহাশিবরাত্রি মানেই উপবাস, জপ, আরাধনা ও সংযমের এক পবিত্র দিন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবার পালিত হবে মহাশিবরাত্রির ব্রত। বিশ্বাস করা হয়, এই তিথিতে নিষ্ঠা ও নিয়ম মেনে ব্রত পালন করলে মহাদেবের আশীর্বাদ লাভ হয়। তবে শাস্ত্রোক্ত নিয়ম অমান্য করলে ব্রতের পূর্ণ ফল মেলে না। তাই ব্রত শুরুর আগে জেনে নেওয়া জরুরি—কী করবেন, আর কোন কাজগুলি এড়িয়ে চলবেন।
ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় মহাশিবরাত্রি। হিন্দু ধর্মে এই ব্রতকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্রত বলে মানা হয়। বহু ভক্ত দিবা-রাত্র নির্জলা উপবাস রেখে চার প্রহরে শিবলিঙ্গে জল বা দুধ অর্পণ করেন। প্রতিটি প্রহরে বিশেষ মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজার বিধান রয়েছে।
ব্রত পালনের নিয়ম
-
উপবাস: শাস্ত্রমতে নির্জলা উপবাসের বিধান থাকলেও শারীরিক অসুবিধা থাকলে ফলাহার করা যেতে পারে।
-
সংযম পালন: ব্রতের আগের দিন (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শনিবার) পেঁয়াজ-রসুন বর্জিত নিরামিষ আহার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
-
শান্ত আচরণ: ব্রত চলাকালীন কারও সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক বা বাগ্বিতণ্ডা এড়িয়ে চলা উচিত। মানসিক পবিত্রতা বজায় রাখাই এই দিনের মূল মন্ত্র।
-
চার প্রহরের পূজা: চতুর্দশী তিথি শুরু হওয়ার পর শিবলিঙ্গে জল অর্পণ না করা পর্যন্ত খাদ্য ও জল গ্রহণ না করাই শ্রেয়।
কোন কাজগুলি এড়িয়ে চলবেন?
-
ব্রত শুরুর আগে ও পরে মশলাদার, ভাজাভুজি বা আমিষ খাবার গ্রহণ করা অনুচিত।
-
কারও সমালোচনা, নিন্দা বা কটু কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। এতে ব্রতের পুণ্যফল ক্ষুণ্ণ হয় বলে মনে করা হয়।
-
এই দিনে ক্ষৌরকর্ম নিষিদ্ধ—চুল, দাড়ি বা নখ কাটা উচিত নয়।
মহাশিবরাত্রি শুধু উপবাসের দিন নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণেরও দিন। শাস্ত্রবিধি মেনে ব্রত পালন করলে জীবনে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়—এমনটাই বিশ্বাস ভক্তদের।



