দেশের রাজনৈতিক আবহ আবারও উত্তপ্ত। সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে মাদানির মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। জমিয়েত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মৌলানা মেহমুদ মাদানি উত্তরপ্রদেশে এক অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ আদালত এবং জিহাদ প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেন, যা মুহূর্তেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসকদল BJP সরাসরি পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদানি বলেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টকে আর সুপ্রিম বলা যায় না। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আইন বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সামাজিক পরিমণ্ডলে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে মাদানির মন্তব্য কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং কতটা রাজনৈতিক, তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।
‘সুপ্রিম কোর্টকে আর সুপ্রিম বলা যায় না’, মাদানির মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক দেশ জুড়ে
মাদানির দাবি, সংবিধানের নির্দেশনা মেনে না চললে সুপ্রিম কোর্ট তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। তিনি ১৯৯১ সালের উপাসনালয় আইনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আইন থাকার পরও বাবরি মসজিদ মামলা বা তিন তালাক মামলার রায়ে সরকারের চাপের ছায়া দেখা গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে জ্ঞানবাপী ও মথুরা মামলার শুনানি চলছে উপাসনালয় আইনকে অগ্রাহ্য করেই।
তিনি আরও যোগ করেন, যদি এই প্রবণতা চলতেই থাকে, তবে সুপ্রিম কোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই থাকবে। তাঁর এই বক্তব্যই মূলত রাজনৈতিক অগ্নিকাণ্ডের সূচনা করেছে। সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে মাদানির মন্তব্য শাসকদলের কাছে ‘ইচ্ছাকৃত আক্রমণ’ এবং ‘আদালতের মর্যাদা নষ্ট করার অপচেষ্টা’ বলেই মনে হয়েছে।
মাদানি শুধু আদালতকে কাঠগড়ায় তোলেননি, জিহাদ প্রসঙ্গেও বিস্তৃত ব্যাখ্যা দেন। তার দাবি, ইসলামে জিহাদ একটি পবিত্র ভাবনা, কিন্তু বর্তমানে লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদ বা থুথু জিহাদের মতো শব্দ ব্যবহার করে মুসলিম সমাজকে হেয় করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, যখনই নির্যাতন বা অন্যায় হবে, তখনই জিহাদের ধারণা সামনে আসবে। তাঁর এই বক্তব্যও নতুন করে রাজনৈতিক আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে।
এখানেই থেমে থাকেননি মাদানি। তিনি SIR প্রসঙ্গেও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে নীরব, ফলে এক বিশেষ সম্প্রদায়কে টার্গেট করার প্রবণতা বাড়ছে। মব লিঞ্চিং, বুলডোজার অভিযান, ওয়াকফ সম্পত্তি দখলসহ বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন যে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চলেছে।
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে মাদানির মন্তব্য এবং জিহাদ সমর্থনের অভিযোগে সরব হয়েছে BJP। দলের জাতীয় মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র বলেন, মাদানির বক্তব্যে উসকানি রয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, জিহাদের নামে সন্ত্রাস কীভাবে ছড়িয়েছে, তা গোটা বিশ্ব দেখেছে। তাই এই শব্দকে ‘পবিত্র’ বলে ব্যাখ্যা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
শাসকদলের দাবি, জমিয়েত নেতার বক্তব্য দেশের বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন এবং সামাজিক সম্প্রীতি—সব কিছুকে আঘাত করে। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও চওড়া হতে পারে। কারণ সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে মাদানির মন্তব্য দেশের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা ও আদালতের মর্যাদা নিয়ে সংবেদনশীল প্রশ্ন তুলেছে।







