১০ লক্ষ টাকা দিয়ে তৃণমূলে পদ! বিস্ফোরক মন্তব্য মদন মিত্রের, সতর্ক করলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে

তৃণমূল কংগ্রেসের পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দুর্নীতি ও টাকা তোলার অভিযোগ তুললেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনে ব্যাপক রদবদল হতে পারে, এমনই ইঙ্গিত দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তৃণমূলের অভ্যন্তরে ‘দালাল’দের উপস্থিতি এবং দলের পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। মদন মিত্রের দাবি, তৃণমূলের জেলা কমিটিতে পদ পেতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।

দলীয় পদে দুর্নীতির অভিযোগ
মদন মিত্র অভিযোগ করেছেন, ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর দলের মধ্যে বিভিন্ন দালালদের আনাগোনা বেড়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দলের নেতাদের তোষামোদ করে পদ পাইয়ে দেওয়ার জন্য টাকা তুলছে। টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কামারহাটির বিধায়ক বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করে টাকা তুলছে কিছু দালাল। তারা ছবি তুলে, পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা সংগ্রহ করছে।”

মদন মিত্রের বিস্ফোরক মন্তব্য
মদন মিত্র জানালেন, এখন তৃণমূল কংগ্রেসের পদ পাওয়াটা সরকারি অফিসারের পদ পাওয়ার চেয়ে বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে। বিশেষত কিছু ব্যবসায়ী, যাদের হাতে কালো টাকা রয়েছে, তারা দলের পদ পাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। “একশ্রেণির মানুষ, যারা কাঁচা টাকা ও কালো টাকা নিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় চাইছেন, তারা ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে জেলা কমিটির পদ পেতে চাইছেন,” বলেন মদন।

তিনি আরও বলেন, “আমি জানি না, কে কীভাবে পদ পাচ্ছে। অনেকেই এসে বলেন, তারা এই পদে রয়েছেন, তারা ওই পদে রয়েছেন। অথচ, তাদের আমি চিনি না।”

মমতার কাছে পৌঁছায় কি এসব দুর্নীতি?
তৃণমূলের পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দুর্নীতির অভিযোগে মদন মিত্র বলেন, “দলীয় পদ দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এই অভিযোগ পৌঁছেছে কি না, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত না। আমার মনে হয়, মমতা এবং অভিষেক পর্যন্ত এই দুর্নীতির খবর পৌঁছায়নি।” মদন আরও জানান, জেলা কমিটির পদ থেকে শুরু করে ব্লক স্তরের কমিটির কাজেও ব্যাপক দুর্নীতি চলছে।

একমাত্র মমতাই জানেন সব কিছু
তবে, মদন মিত্র স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, এই দুর্নীতির দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর বর্তায় না। তাঁর মতে, জেলা পর্যায়ের নেতারা এই ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। “দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও সতর্ক হতে হবে,” বলেন তিনি। তিনি আরও জানিয়েছেন, বহু অভিযোগ তাঁর কাছে আসছে এবং সেগুলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই দলের নিচুস্তরে ঠিক করা উচিত।

চলতি পরিস্থিতিতে সতর্ক বার্তা
মদন মিত্র তাঁর মন্তব্যে দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। “তৃণমূলের নাম করে অনেকেই টাকা তুলছেন, সরকারি প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার নামে। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের উচিত, আরও নজর দেওয়া,” বলেন মদন। তিনি নিজেও এই বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তুলে ধরেছেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর