ভারতীয় সময় ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা থেকে ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ২২ মিনিট পর্যন্ত দেশের আকাশে দেখা যাবে এই বিরল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। মোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ধরে। এই দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে। বৈজ্ঞানিকরা বলছেন, এটি এক বিরল মুহূর্ত। কারণ পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের নিখুঁত সরলরেখায় বিন্যাস এবং চাঁদের পৃথিবী থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান গ্রহণকে এত দীর্ঘায়িত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী বিন্দুতে অবস্থান করছে, তখন তার গতিবেগ কমে যায়। এই কারণে পৃথিবীর ছায়া অতিক্রম করতে চাঁদের তুলনায় বেশি সময় লাগে। পাশাপাশি, চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার সবচেয়ে গভীর অংশ বা উমব্রার মধ্য দিয়ে যাবে। তাই এই পূর্ণগ্রাস গ্রহণ এত দীর্ঘ হয়। এমপি বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের প্রাক্তন অধিকর্তা দেবীপ্রসাদ দুয়ারি বলেন, “চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। পৃথিবীর ছায়ার মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো যখন চাঁদে পৌঁছায়, তখন নীল রশ্মি বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ে, আর লাল রশ্মি কম বিচ্ছুরিত হয়ে চাঁদের ওপর এসে পড়ে। এই কারণেই চাঁদ গাঢ় লালাভ রঙ ধারণ করে।”


ভারতীয় সময় অনুসারে, চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিট (GMT অনুযায়ী), অর্থাৎ ভারতের রাত ৮টা ৫৮ মিনিটে। শেষ হবে পরবর্তী দিন রাত ২টা ২৫ মিনিটে। তবে ভারতের আকাশে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত, প্রায় ৮২ মিনিট ধরে।
৮২ মিনিট পূর্ণগ্রাস, ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের চন্দ্রগ্রহণ, এত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে কেন?

এই বিশেষ ‘রক্তচাঁদ’ বা ব্লাড মুন দৃশ্য উপভোগ করতে পারবে এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার কোটি কোটি মানুষ। বিশেষ করে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, পুণে, হায়দরাবাদ, লখনউ, চণ্ডীগড়সহ ভারতের প্রায় সব শহর থেকে দেখতে পারা যাবে। তবে আবহাওয়া অবশ্যই সহায়ক থাকতে হবে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থাকলে গ্রহণ দেখা যাবে না।
বৈজ্ঞানিক সন্দীপকুমার চক্রবর্তী ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স থেকে বলেছেন, “রবিবার রাত ১১টা ৪২ মিনিটে চাঁদ গাঢ় লাল রঙ ধারণ করবে। এটি একটি নজরকাড়া ও বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, অন্ধকার স্থান থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খালি চোখে এই দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করা উচিত।”


অনেকে এখনও বিশ্বাস করেন, পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখলে অশুভ প্রভাব পড়বে। কিন্তু বিজ্ঞান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই ধরনের কুসংস্কার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গ্রহণ দেখতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। খালি চোখেই নিরাপদে উপভোগ করা যাবে এই মহাজাগতিক খেলা। বিশেষজ্ঞরা আবারও বলছেন, ‘রক্ত চাঁদ’ বা ব্লাড মুন পর্যবেক্ষণ একটি প্রাকৃতিক ঘটনামাত্র। বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই অসাধারণ দৃশ্যের সৌন্দর্য এবং কার্যকারিতা উপলব্ধি করা উচিত।
আগামী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮ সালে। তাই আজকের রাতের এই দৃশ্য বিশেষ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সকলের উচিত সময় মতো আকাশে নজর রেখে, খালি চোখেই এই বিরল ঘটনা উপভোগ করা। বিশেষ করে ছোট-বড় সকল মানুষের এই মুহূর্তটি দেখতে উৎসাহিত করা উচিত।







