পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার আবহে যখন হরমুজ প্রণালী ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল, তখনই স্বস্তির বার্তা নিয়ে ভারতে পৌঁছল এলপিজি বোঝাই ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’। সোমবার গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে ভিড়েছে জাহাজটি। একই সঙ্গে আর একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার ‘নন্দাদেবী’ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে মুম্বইয়ের দিকে এগোচ্ছে। মঙ্গলবার সেটি মুম্বই বন্দরে পৌঁছতে পারে বলে সূত্রের খবর। ফলে দেশে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (SCI)-এর মালিকানাধীন ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’-এ রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি। অন্যদিকে ‘নন্দাদেবী’তেও বিপুল পরিমাণ এলপিজি রয়েছে। হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে এই দুই জাহাজের ভারতে পৌঁছনো জ্বালানি সরবরাহের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


হরমুজ পেরিয়ে স্বস্তির খবর! এলপিজি বোঝাই ‘শিবালিক’ পৌঁছল মুন্দ্রায়, মুম্বইয়ের পথে ‘নন্দাদেবী’

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল ও আমেরিকা। তার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে পূর্ব এশিয়া ও ভারতমুখী জাহাজগুলির জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট।
এই অচলাবস্থার জেরে ভারত-সহ বহু দেশই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চিন্তায় পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে নয়াদিল্লি। সংঘাতের পর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-র সঙ্গে একাধিক বার কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এমনকি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গেও ফোনে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এর পরেই ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি আশ্বাস দেন, ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে কোনও বাধা থাকবে না। তিনি বলেন, “ভারত ও ইরান দীর্ঘদিনের বন্ধু। সেই সম্পর্কের মর্যাদা আমরা রাখব।”


পরিস্থিতির এই উন্নতির পরই ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করেছে। তার মধ্যে দ্বিতীয়টি ‘শিবালিক’ এবং তৃতীয়টি ‘নন্দাদেবী’। প্রথমটি ছিল লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার।
উল্লেখ্য, ভারত প্রতিদিন প্রায় ১৯.১ কোটি স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার গ্যাস ব্যবহার করে, যার প্রায় অর্ধেকই আমদানি করতে হয়। ফলে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে এলপিজি বোঝাই এই জাহাজ দুটির ভারতে পৌঁছনো সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।







