মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি বাজারে। অপরিশোধিত তেলের দামের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে সম্ভাব্য সঙ্কট ঠেকাতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে দ্বিতীয় গ্যাস সিলিন্ডার বুক করতে হলে অন্তত ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে বুকিংয়ের সময়সীমা ছিল ২১ দিন। মূলত মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে সাধারণ মানুষ প্রায় ৫০–৫৫ দিন অন্তর গ্যাস বুক করতেন, সেখানে বর্তমানে অনেকেই মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই নতুন সিলিন্ডার বুক করছেন। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে। সেই কারণেই বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুধু বুকিংয়ের নিয়ম পরিবর্তনই নয়, সরকার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে।
-
সরকারি ও বেসরকারি রিফাইনারিগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
গৃহস্থলির এলপিজি সরবরাহকে বাণিজ্যিক গ্যাসের তুলনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
-
গ্যাসের কালোবাজারি ও অতিরিক্ত মজুত রুখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বার পড়া হয়েছে:
ধূমপায়ীদের পকেটে টান! সিগারেট, বিড়ি, পানমশলার দাম বাড়ছে—কবে থেকে কার্যকর জানাল কেন্দ্র
সরকারি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন আন্তর্জাতিক অংশীদার খোঁজার কাজও চলছে। ইতিমধ্যে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নরওয়ের মতো কয়েকটি দেশ ভারতের কাছে এলপিজি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগানে। ফলে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন ডিস্ট্রিবিউটররা।
তবে সরকারের দাবি, গৃহস্থলির গ্যাসের সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবু সাধারণ মানুষের দ্রুত বুকিংয়ের প্রবণতার কারণে ডিস্ট্রিবিউটরদের উপর চাপ বাড়ছে বলেও জানা যাচ্ছে।









