ডালাস (Dallas) যেন রবিবার পরিণত হয়েছিল আর্জেন্টিনার নীল-সাদা উৎসবে। লিওনেল মেসি (Lionel Messi) প্রথম একাদশে না থাকবেন, তা আগেই জানা ছিল। তবুও স্টেডিয়ামে সমর্থকদের ঢল প্রমাণ করে দিল, মেসির উপস্থিতিই আলাদা আবেগ। শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে নেমে ফ্রিকিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে সেই আবেগকে আরও উসকে দিলেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। জর্ডনকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা (Argentina Football Team)।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ ছিল লিওনেল স্কালোনির (Lionel Scaloni) দলের হাতে। জুলিয়ান আলভারেজ (Julián Álvarez), লাউতারো মার্টিনেজ (Lautaro Martínez) এবং মাঝমাঠের ফুটবলাররা একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও প্রথমদিকে গোলের দেখা মিলছিল না। অন্যদিকে জর্ডন (Jordan Football Team) নিজেদের অর্ধেই আটকে ছিল বেশিরভাগ সময়।
অবশেষে ১৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল আসে। বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রিকিক দারুণভাবে জালে জড়িয়ে দেন জিওভানি লো সেলসো (Giovani Lo Celso)। জর্ডনের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা (Yazid Abulaila) সামান্য অবস্থান বদল করায় বল আটকানোর সুযোগ পাননি।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেন লাউতারো মার্টিনেজ। তাঁর জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে স্টেফানো সেনসি (Stefano Sensi) হেড করতে গেলে ডিফেন্ডারের বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জের ঘটনায় প্রথমে ফাউল দেওয়া হলেও পরে VAR-এর নির্দেশে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত হয়। স্পটকিক থেকে কোনও ভুল করেননি মার্টিনেজ। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে জর্ডন কিছুটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। ৫৫ মিনিটে ডানদিক থেকে ইহসান হাদ্দাদ (Ehsan Haddad)-এর নিখুঁত ক্রসে মুসা আল-তামারি (Musa Al-Taamari) কাছ থেকে গোল করে ব্যবধান কমান। গোল হজমের পরই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্রকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন স্কালোনি।
৬০ মিনিটে দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। প্রথম ফ্রিকিকটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি। ম্যাচের ৮০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রিকিক বাঁক খেয়ে জড়িয়ে যায় জর্ডনের জালে। সেই গোলেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। শুরু থেকে না খেলেও বদলি নেমে গোল করে আবারও ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন লিওনেল মেসি। নকআউট পর্বের আগে এই জয় এবং অধিনায়কের ফর্ম নিঃসন্দেহে স্কালোনির দলের আত্মবিশ্বাস আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল।






