ডায়মন্ড হারবারে রেল অবরোধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে শিয়ালদা স্টেশনে। ট্রেন না পেয়ে চরম সমস্যায় পড়েছিলেন ডায়মন্ড হারবার রুটের নিত্যযাত্রীরা। সাত সকাল থেকে টানা ৫ ঘণ্টা অবরোধের জেরে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই শাখার ট্রেন চলাচল। চূড়ান্ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় যাত্রীদের। তবে ‘ট্রেন লেট করে’ এই অভিযোগকে সামনে রেখে অবরোধ করেছিলেন যাত্রীরাই।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের থেকে অনেক দেরিতে চলছে ট্রেন। কোনও একদিন নয়। প্রতিদিনই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে বুধবার সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে ডায়মন্ডহারবার স্টেশনে বিক্ষোভ শুরু করেন নিত্যযাত্রীরা। অবরোধের জেরে বন্ধ হয়ে যায় ডায়মন্ডহারবার-শিয়ালদহ শাখার ট্রেন চলাচল। বাতিল হয় ট্রেন ফলে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন অন্য যাত্রীরা।
কিন্তু ট্রেন কেন লেটে চলে? এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, ‘রেল কখনও চায় না ট্রেন দেরিতে চলুক। মূল কারণ মানুষকে বুঝতে হবে। রেলগেট ঠিক সময়ে বন্ধ করতে পারি না আমরা। ঢাকুরিয়াতে প্রতিটা ট্রেনকে অন্তত ৫ মিনিট দাঁড়াতে হয় ঠিক সময়ে রেলগেট বন্ধ করা যায় না বলে। ফলে একটা ট্রেনকে যদি সোনারপুরও যেতে হয় অন্তত ৫ মিনিট দেরি হয়ে যায়। এরপর আবার সোনারপুরে গেট, তারপরে বারুইপুরে গেট রয়েছে। প্রতিটা গেটে ৪ মিনিটও যদি দেরি হয়। তাহলে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়।’
তাঁর কথায়, রেল যাত্রীদের এটাও বুঝতে হবে যে, রেলের ট্রাকে কোনওরকম সমস্যা না থাকলে রেল ঠিক সময়েই চলবে। যে কোনও গেটে দেখবেন সাইরেন বাজছে। সিগন্যাল রয়েছে তাও ঢুকে পড়ছেন অনেকে।এইভাবে যদি নিয়ম না মানা হয় তাহলে কিভাবে চলবে। সময়ে যদি রেল গেট ফেলে দেওয়া হয় তাহলে রেল লাইনের মাঝেই আটকে পড়বেন অনেকে, সেক্ষেত্রে দুর্ঘটনা অনিবার্য। তাই ট্রেন যদি সময়ে চালাতে হয় তাহলে মানতে হবে নিয়ম। রেল গেট পড়ার সাইরেন বাজলে বা রেল গেট পড়ছে দেখতে পেলে জোর জবরদস্তি লাইন পেরোনোর চেষ্টা করা যাবে না!



