বজবজে বড় মধুচক্রের হদিশ, ১৭ জন গ্রেফতার

বজবজ থানার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে চলছিল মধুচক্রের আড়ালে দেহব্যবসার কারবার, গ্রেফতার ১৭ জন, এক প্রভাবশালী নেতার শ্যালিকা জড়িত

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে ঘটল একটি বড় মধুচক্রের উন্মোচন, যার ফলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। মূলত, এক গৃহবধূকে কটূক্তি করার অভিযোগ থেকে পুলিশ এক ভয়াবহ দেহব্যবসার চক্রের হদিশ পায়। অভিযোগটি ছিল যে, ওই গৃহবধূর বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি অশ্লীল মন্তব্য এবং অঙ্গভঙ্গি করেছিল। এই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানায়, এই ঘটনাটি ছিল এক বড় মধুচক্রের অংশ, যা বহুদিন ধরেই চলছে।

বজবজ থানার অন্তর্গত নিশ্চিন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রবীন্দ্র কানন শিশু উদ্যানের পাশে দীর্ঘদিন ধরে দেহব্যবসার কারবার চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। এখানেই, কলেজ ছাত্রীরা দিনে আসে এবং রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে গৃহবধূরা আসেন। বিষয়টি সামনে আসে যখন সোমবার, এক গৃহবধূকে কটূক্তি করা হয় এবং অশ্লীল প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিবাদ জানালে, ওই গৃহবধূ পুলিশে অভিযোগ করেন। এরপরই তদন্তে নেমে পুলিশ এক বড় মধুচক্রের অস্তিত্ব খুঁজে পায়।

এখানে নানা কলেজ রয়েছে এবং স্থানীয় দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে যুবতীদের দেহব্যবসায় নামানো হত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের কিছু ছাত্রীরা দিনে এখানে আসত, আর সন্ধ্যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে গৃহবধূরা হাজির হতেন। বাইরের অনেক লোকও এসে এই যুবতী এবং গৃহবধূদের কটূক্তি করত। একাধিকবার স্থানীয়রা পুলিশে অভিযোগ জানালেও, পুলিশ তেমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।

এবার, বজবজ থানার পুলিশ মধুচক্রের আসর থেকে ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে ৫ মহিলা এবং ১২ পুরুষ রয়েছেন। জানা গেছে, এক প্রভাবশালী নেতার শ্যালিকা এই দেহব্যবসার চক্রের সঙ্গে জড়িত। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আলিপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের মধুচক্র নিয়ে আগে কখনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে, এখন ঘটনাটি জনসমক্ষে আসার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পূর্বে অনেক বার তারা এই বিষয় নিয়ে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এছাড়া, মধুচক্রের হোতা রিঙ্কি বিবি তার বাড়ি ভাড়া দিয়েই এই দেহব্যবসা চালাতেন। পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, রিঙ্কি বিবি এবং তার সহযোগীরা মধুচক্রের সাথেই যৌন ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন, যার মাধ্যমে স্থানীয় যুবতী ও গৃহবধূদের শোষণ করা হচ্ছিল।

বজবজের মধুচক্রের হদিশ এক বড় ধরনের কেলেঙ্কারি প্রকাশ করেছে, যা নিয়ে এলাকাবাসী এবং পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের হলেও, আরও তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই। একে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত