বাংলাদেশে মৌলবাদীদের দাপট দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই মুহূর্তে লালন স্মরণোৎসব একটি নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম এবং কওমি উলামা পরিষদের আপত্তির কারণে, মধুপুর উপজেলার লালন স্মরণোৎসব বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রশাসন যদিও উৎসবটির আয়োজনের অনুমতি দিয়েছিল, তবুও মৌলবাদী সংগঠনগুলোর হুমকির মুখে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।
লালন সাঁইয়ের ১৩৪তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে ১২ ফেব্রুয়ারি মধুপুর উপজেলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি স্মরণোৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে হেফাজতে ইসলামের আপত্তি এবং ইসলাম বিরোধী মতাদর্শের অভিযোগ তুলে, অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত আয়োজিত হয়নি। অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সবুজ মিঞা জানান, “উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই আমরা উৎসব আয়োজন করেছিলাম, কিন্তু হেফাজতে ইসলামের আপত্তি ও বাধার কারণে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়।”


এদিকে, অনুষ্ঠান স্থগিতের পরে মধুপুর হেফাজতে ইসলামের নেতারা জানান, লালনের মতাদর্শ ইসলাম বিরোধী এবং তারা এই ভ্রান্ত মতাদর্শকে প্রচার হতে দেবেন না। তারা আরও বলেন, “মধুপুরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো হবে এমন আশঙ্কা থেকেই অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।”
মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারের নিস্ক্রিয়তা:
এই ঘটনা দেশের ধর্মীয় সঙ্কটের আরও একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, গত এক বছরে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে সহিংসতা বেড়েছে, তাতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দুর্গাপুজো, কালীমন্দির ভাঙচুরের মত ঘটনা ছাড়াও, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হুমকি দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনার পর, এবার লালন স্মরণোৎসবেও মৌলবাদীদের বাধা সম্মুখীন হতে হয়েছে।


মধ্যপ্রদেশের লালন মেলা বন্ধ হওয়ার ঘটনা:
গত বছর নারায়ণগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী লালন মেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, আর এবার মধুপুরে এই ঘটনা ঘটলো। মৌলবাদীদের সহিংস আচরণে ধর্মীয় স্বাধীনতার চ্যালেঞ্জ আরও প্রকট হয়েছে। অথচ, সরকারের তরফ থেকে এর বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের কোন উদ্যোগ এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি।
লালনের মতাদর্শের প্রতি মৌলবাদীদের ঘৃণা:
বাংলাদেশে মৌলবাদী সংগঠনগুলো বারবার দাবি করে আসছে যে, লালনের মতাদর্শ ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ইসলাম বিরোধী। তারা লালন সাঁইয়ের শিষ্যদের মধ্যে ইসলামিক মৌলিক নীতির প্রতি অজ্ঞতা ও অস্বীকৃতি দেখতে পায়। এসব কারণে তারা লালন স্মরণোৎসবের আয়োজন নস্যাৎ করতে চায়, যাতে তার মতাদর্শ বিস্তার না পায়।








