রাজ্য বাজেটের পর একের পর এক সরকারি প্রকল্পে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ এবং নতুন ঘোষণায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে নতুন যুবসাথী প্রকল্প—মাসে নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তার আশায় রাজ্যের বিভিন্ন ক্যাম্পে সকাল থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন উপভোক্তারা। কে ‘এলিজেবল’, কী কী নথি লাগবে—এই প্রশ্ন নিয়েই বহু মানুষ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন আবেদন করতে।
সোমবার সকাল থেকেই যাদবপুর বিধানসভা এলাকায় বাংলার যুবসাথী প্রকল্পের ক্যাম্প শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সেখানে লম্বা লাইন দেখা যায়। যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে মহিলারা—সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে অনেকেই হাজির হয়েছেন ক্যাম্পে। শুধু যুবসাথী নয়, একই সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপও চলছে।


যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করতে যে নথিগুলি জমা দিতে হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, পরীক্ষার রেজাল্ট এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি। আবেদন জমা নেওয়ার পর প্রাপকদের হাতে রশিদ দেওয়া হচ্ছে। যাদবপুর বিধানসভার মোট ১০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারাই এই ক্যাম্পে আবেদন করতে পারছেন।
অন্যদিকে টালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় ঋষি অরবিন্দ পার্কে বসেছে যুবসাথী প্রকল্পের আরেকটি ক্যাম্প। সেখানেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম নেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে সাধারণ মানুষের।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসে সাধারণ প্রাপকেরা পাবেন ১৫০০ টাকা, আর তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি তালিকাভুক্ত মহিলারা পাবেন ১৭০০ টাকা। তবে এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে কয়েকটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে হবে।


প্রথমত, আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে। এই প্রকল্প শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য এবং আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, সরকারি সংস্থা, পঞ্চায়েত বা পৌর প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরিতে থাকতে পারবেন না এবং সরকারি পেনশনভোগীও হওয়া চলবে না।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আবেদন করতে প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ সহ পাসবুকের কপি, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এসসি বা এসটি শংসাপত্র। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে সেটিও জমা দেওয়া যেতে পারে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, যুবসাথী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার—দুই প্রকল্পেই অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন করা সম্ভব। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াকেই বেশি সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে।








