রবিবার একুশে জুলাই, অর্থাৎ তৃণমূলের শহিদ দিবস। প্রত্যেক বছরের মতো এবারেও ধর্মতলায় বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে শাসক দলের। আর অন্য বছরের তুলনায় এবার যেন কিছুটা বেশিই সাজো সাজো রব। কারণ, সদ্যই লোকসভা ও বিধানসভা উপনির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে মঞ্চ বাঁধার কাজ। জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে সেদিন ধর্মতলায় আসবেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। এদিকে শুক্রবার রেলের তরফে জানানো হয়, শনিবার ও রবিবার শিয়ালদহ ডিভিশনে একাধিক ট্রেন বাতিল থাকবে।
এই ঘটনা জানার পরেই এক্স হ্যান্ডলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং রেলের এই সিদ্ধান্তকে তিনি বিজেপির ‘চক্রান্ত’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “রবিবার ২১ জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের সমাবেশে বিঘ্ন ঘটাতে পরের পর ট্রেন বাতিলের খবর আসছে। তালিকা দীর্ঘ। এই চক্রান্তের তীব্র নিন্দা করছি। এভাবে তৃণমূলকে থামানো যাবে না।” এই পোস্টের পরেই কিন্তু নড়েচড়ে বসে রেল এবং পূর্ব রেলের সিপিআরও জানিয়ে দেন শনি এবং রবিবার শিয়ালদহ ডিভিশনে কোনও লোকাল বাতিল হচ্ছে না।



শুক্রবার রেলের তরফে জানানো হয়, লাইন মেরামতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলবে আগামী শনি এবং রবিবার অর্থাৎ, ২০ ও ২১ জুলাই। ফলে একাধিক ট্রেন বাতিল থাকবে শিয়ালদহ ডিভিশনে। লোকাল ট্রেনের পাশাপশি বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাপথ বদল করা হয়েছে বলেও জানায় রেল। পাশাপাশি জানানো হয়, কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।
কুণালের এক পোস্টে কেল্লাফতে, একুশে জুলাই কোনও ট্রেন বাতিল হচ্ছে না, জানিয়ে দিল রেল
রবিবার এমনিতে ছুটির দিন। অধিকাংশ সরকারি এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকে। ২০ জুলাই শনিবারে কিছু অফিস-কাছারি খোলা থাকলেও রবিবার সেই সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। সেই কারণেই রেল এই ধরনের কাজ শনি ও রবিবার করে থাকে। এদিকে, তৃণমূল সমর্থকদের কাছে ২১ জুলাই একটা আবেগ। ওই দিন সারা বাংলা থেকে সমর্থকরা আসেন ধর্মতলার সমাবেশে। দূর দূর থেকে বাস ভাড়া করে আসেন হাজার হাজার সমর্থক। আবার সিংহ ভাগ সমর্থকের ভরসা লোকাল ট্রেন। তাই অবশেষে রেলের তরফে নিজেদের সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করা হল।









