কৃষ্ণনগরে কলেজছাত্রী খুনে অবশেষে গ্রেফতার দেশরাজ

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কলেজছাত্রী ঈশিতাকে খুনের অভিযোগ, পলাতক অভিযুক্ত দেশরাজকে অবশেষে পাকড়াও করল পুলিশ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নদিয়ার কৃষ্ণনগরে কলেজছাত্রী খুনে অভিযুক্ত দেশরাজ সিংহকে অবশেষে গ্রেফতার করল পুলিশ। বহুদিনের তল্লাশির পর উত্তরপ্রদেশ-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়েছে। বর্তমানে ট্রানজিট রিমান্ডে দেশরাজকে নিয়ে আসা হয়েছে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায়।

গত ২৫ অগস্ট দুপুরে কৃষ্ণনগরের নিজের বাড়িতে মাথায় একাধিক গুলি করে খুন করা হয় কলেজছাত্রী ঈশিতা মল্লিককে। ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত দেশরাজ সিংহ গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। পুলিশের অনুমান ছিল, খুনের পর তিনি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ায় পৈতৃক বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কয়েকদিন ধরে একাধিক পুলিশ টিম তল্লাশি চালালেও তিনি ধরা দেননি। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত যুবক।

দেশরাজের পরিবার ও অতীত ঘিরে তদন্তকারীদের নয়া প্রশ্ন উঠছে। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় ভাড়াবাড়িতে মা ও বোনের সঙ্গে থাকতেন তিনি। তাঁর বাবা বিএসএফ জওয়ান। অভিযোগ, প্রেমে ব্যর্থ হয়েই তিনি এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘটান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঈশিতার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাইছিলেন না তরুণী। কিন্তু দেশরাজ জোর করে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাপ দিচ্ছিলেন। এমনকি, আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন বলে একটি ভিডিয়ো পাঠিয়েছিলেন ‘প্রেমিকা’র কাছে। তাতেও মন না-গলাতেই তিনি খুনের পরিকল্পনা করেন বলে অনুমান করছে পুলিশ।

খুনের ঘটনার পর প্রথমেই মামা কুলদীপ সিংহের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন দেশরাজ। পুলিশ ইতিমধ্যেই কুলদীপকে গুজরাতের জামনগর থেকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, মামাই ভাগ্নেকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন। তদন্তকারীরা মনে করেছিলেন, কুলদীপের সূত্র ধরেই দেশরাজকে পাওয়া সম্ভব হবে। অবশেষে তাই ঘটল।

দেশরাজের অপরাধ-সংক্রান্ত নেটওয়ার্ক নিয়েও খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। জানা গেছে, তাঁর দুই আত্মীয় দঙ্গল সিংহ ও মঙ্গল সিংহের বিরুদ্ধে খুন-সহ অন্তত ৪০টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তাঁরা জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। দেশরাজ তাঁদের কাছেও আশ্রয় নিতে পারেন বলে সন্দেহ করেছিল পুলিশ। এছাড়াও তাঁর মাতামহ সরযূপ্রসাদ সিংহ স্থানীয় প্রভাবশালী ‘মুখিয়া’। আবার খুনের আগে গোরক্ষপুরে থাকা খুড়তুতো ভাই নিতিন প্রতাপ সিংহের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন দেশরাজ। দু’জন মিলে খুনের পরিকল্পনা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তদন্তকারীরা।

এই মুহূর্তে দেশরাজকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তকারীরা তাঁর কাছ থেকে খুনের আসল উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য সহযোগীদের নাম জানার চেষ্টা করছেন। কলেজছাত্রী খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর কৃষ্ণনগরের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এক তরুণীর প্রাণ নেওয়ার পিছনে ঠিক কী কী কারণ কাজ করেছিল? সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর