রাতের কলকাতায় তরুণীকে গাড়িতে তোলার ঘটনায় শ্লীলতাহানি, এক জন গ্রেফতার

প্রগতি ময়দান এলাকায় তরুণীকে জোর করে গাড়িতে তোলার অভিযোগে এক অভিযুক্তকে ধরল পুলিশ। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে তথ্য, বাকি দু’জনকে খুঁজছে লালবাজার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাতের কলকাতায় শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য। প্রগতি ময়দান থানা এলাকায় ২৪ বছরের এক তরুণীকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। আরও দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এবং তাঁদের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি চলছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর রাতের দিকে। অভিযোগকারী তরুণীর দাবি, প্রগতি ময়দান থানার কাছে হঠাৎই একটি গাড়ি থেমে তাঁকে জোর করে তোলা হয়। গাড়ির ভিতরে তিন জন ছিলেন এবং সেই তিন জনের বিরুদ্ধেই শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠে এসেছে। তরুণীর কথায়, অভিযুক্তেরা তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং তিনি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। এতে তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় চোট লাগে।

রাতের কলকাতায় তরুণীকে গাড়িতে তোলার ঘটনায় শ্লীলতাহানি, এক জন গ্রেফতার

পরে ময়দানের কাছে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তেরা দ্রুত সরে পড়ে। ঘটনাস্থলের কাছে টহলরত পুলিশ আধিকারিকেরা তরুণীকে অসহায় অবস্থায় কাঁদতে দেখে এগিয়ে আসেন। তাঁকে প্রগতি ময়দান থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তরুণীর বিবৃতির ভিত্তিতে শ্লীলতাহানির মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তরুণী পূর্ব কলকাতার বাসিন্দা। তাঁর শরীর থেকে প্রাথমিকভাবে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্তকারী আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তরুণীর পরিচিত হতে পারেন—এই তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তরুণীকে কোনওভাবে বিভ্রান্ত বা অজ্ঞান করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা জানতে পুলিশ মেডিক্যাল রিপোর্টের অপেক্ষায়।

ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি দু’জনের পরিচয় এবং অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে। ঘটনার রাতে গাড়ির গতিপথ, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন, এবং এলাকার অন্যান্য সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এই ঘটনার জেরে রাতের কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। শহরের অন্যতম ব্যস্ত অঞ্চল প্রগতি ময়দান এবং ময়দান এলাকায় এমন ঘটনা পুলিশের টহলব্যবস্থা ও নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

লালবাজার জানিয়েছে, অপরাধীরা যতক্ষণ না ধরা পড়ছে, ততক্ষণ তদন্ত জারি থাকবে। গ্রেফতার করা ব্যক্তিকে আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত