কলকাতা: আগামীকাল রবিবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর (IMD Kolkata) জানিয়েছে, একটি সক্রিয় মৌসুমি অক্ষ ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় অরেঞ্জ ও ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টি (৭-২০ সেমি) হতে পারে, সাথে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও পাহাড়ি এলাকায় ধসের সতর্কতা বহাল রয়েছে । জেনে নিন আগামীকালের ঘণ্টাভিত্তিক আবহাওয়া ও জেলাভিত্তিক সতর্কতা।
আগামীকাল কলকাতার ঘণ্টাভিত্তিক আবহাওয়া: আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৮৯°F (প্রায় ৩২°C) এবং সর্বনিম্ন ৮১°F (প্রায় ২৭°C)। বাতাসে আর্দ্রতা থাকবে ৭৯%। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা থাকবে এবং দুপুরের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে। দিনের বেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা ৬৫% এবং রাতের বেলায় ২০% ।
সময়ভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস:
| সময়কাল | আকাশের অবস্থা | তাপমাত্রা | বৃষ্টির সম্ভাবনা |
|---|---|---|---|
| সকাল থেকে দুপুর | প্রচণ্ড বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বজ্রঝড় | ৮৫°F – ৮৯°F (২৯°C – ৩২°C) | ৬৫% |
| বিকেল থেকে সন্ধ্যা | মেঘলা ও হালকা বৃষ্টি | ৮৪°F – ৮৬°F (২৯°C – ৩০°C) | ৪০% |
| রাত | আংশিক মেঘলা আকাশ | ৮১°F – ৮২°F (২৭°C – ২৮°C) | ২০% |
দক্ষিণবঙ্গের জেলাভিত্তিক সতর্কতা (ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপের প্রভাব)
দক্ষিণবঙ্গের ওপর সক্রিয় মৌসুমি অক্ষ ও ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করায় আগামীকাল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উপকূল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।
অরেঞ্জ অ্যালার্ট (অতি ভারী বৃষ্টি ৭-২০ সেমি) :
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর: সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় তুমুল বৃষ্টির সাথে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। নদীবাঁধ সংলগ্ন এলাকার মানুষকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলমহল ও সংলগ্ন অঞ্চলে টানা অতি ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইয়েলো অ্যালার্ট (ভারী বৃষ্টি ৭-১১ সেমি) :
কলকাতা, হাওড়া ও হুগলি: সকাল থেকেই দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হবে। শহরের নিচু রাস্তায় জল জমতে পারে।
উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া: বজ্রপাতের তীব্রতা বেশি থাকবে। দুপুরের পর বৃষ্টির বেগ বাড়বে।
হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি: নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান: এই জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম হলেও দিনভর আকাশ মেঘলা থাকবে এবং কয়েক পশলা মাঝারি বৃষ্টিপাত হবে।
রবিবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে শুরু করবে, তবে মেঘলা আকাশ ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে ।
উত্তরবঙ্গের জেলাভিত্তিক পূর্বাভাস (বৃষ্টির সাময়িক বিরতি)
উত্তরবঙ্গে আগামীকাল সার্বিকভাবে বৃষ্টির দাপট দক্ষিণবঙ্গের চেয়ে কিছুটা কম থাকবে। তবে পাহাড়ি জেলাগুলোতে ধসের সতর্কতা বহাল থাকছে। আগামীকাল থেকেই উত্তরবঙ্গে আবার বৃষ্টি বাড়তে শুরু করবে ।
হলুদ সতর্কতা (ভারী বৃষ্টি) :
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার: পাহাড়ি এলাকায় কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার সাথে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। দৃশ্যমানতা কম থাকায় পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চলাচলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পং-এ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে ।
শুষ্ক বা নামমাত্র বৃষ্টি:
উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা: উত্তরবঙ্গের এই তিন সমতলের জেলায় আগামীকাল বৃষ্টির পরিমাণ খুবই কম থাকবে। মাঝেমধ্যে রোদের দেখাও মিলতে পারে। তবে মনে রাখবেন, সোম ও মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলোতে ফের অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি হতে পারে ।
বিশেষ সতর্কতা ও মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা: উত্তর বঙ্গোপসাগরে উত্তাল পরিস্থিতির কারণে এবং ঘণ্টায় ৩৫-৪৫ কিমি (সর্বোচ্চ ৫৫ কিমি) বেগে ঝোড়ো হাওয়া বওয়ার সম্ভাবনায় ২৬শে জুলাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ২৮শে জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকবে ।
আগামীকালের জন্য ৫টি জরুরি পরামর্শ:
১. ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখুন — সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা
২. বজ্রপাতের সময় সাবধান — গাছ বা উঁচু কাঠামোর নিচে দাঁড়াবেন না
৩. নিচু এলাকায় জল জমার বিষয়ে সতর্ক থাকুন — বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে
৪. উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণে সতর্কতা — ধসের ঝুঁকি আছে
৫. পর্যাপ্ত জল পান করুন — আর্দ্রতা ৭৯-৮০% পর্যন্ত থাকায় ভ্যাপসা অস্বস্তি হবে
আগামীকাল দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। কলকাতাসহ অন্যান্য জেলাগুলিতে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে বৈদ্যুতিক তার বা পুরনো গাছ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে । আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে শুরু করলেও উত্তরবঙ্গে ফের বৃষ্টি বাড়বে । সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী আপডেটের জন্য নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



