কলকাতার যানজট কমাতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। গঙ্গা জলপথকে কাজে লাগিয়ে শহরে ওয়াটার ট্যাক্সি পরিষেবা চালুর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং (Arjun Singh)। শুক্রবার ভাটপাড়ায় এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের রাস্তায় নামবে ৫০০টি নতুন সরকারি বাস। পাশাপাশি জলপথে যাত্রী পরিবহণ বাড়াতে একাধিক রুটে ওয়াটার ট্যাক্সি ও ভেসেল পরিষেবা চালুর প্রস্তুতিও চলছে।
উল্টোরথ উপলক্ষে ভাটপাড়ার গোলঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবহণমন্ত্রী বলেন, কলকাতার ক্রমবর্ধমান যানজট মোকাবিলায় শুধু সড়ক নয়, জলপথকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর দাবি, গঙ্গাকে কার্যকর পরিবহণ করিডর হিসেবে ব্যবহার করা গেলে শহরের ট্র্যাফিকের উপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
পরিবহণ দপ্তরের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেটিয়াবুরুজ (Metiabruz)–বাবুঘাট (Babughat), ব্যারাকপুর (Barrackpore)–বাবুঘাট এবং হাওড়া (Howrah)–বালি (Bally)–বেলুড় (Belur) রুটে ওয়াটার ট্যাক্সি পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই পরিষেবা চালু হলে কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার নিত্যযাত্রীর যাতায়াতে নতুন বিকল্প তৈরি হবে বলে মনে করছে পরিবহণ দপ্তর।
একই সঙ্গে সরকারি বাস পরিষেবার সম্প্রসারণ নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রেলের টিকিট না পাওয়ার সমস্যায় বহু যাত্রী ভোগান্তির শিকার হন। সেই কারণেই বাস পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর আগেই ৫০০টি নতুন সরকারি বাস রাস্তায় নামবে। এরপর ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে আরও ১,০০০টি বাস পরিষেবায় যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী মার্চের মধ্যে প্রায় ১,৫০০টি নতুন সরকারি বাস রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবহণের পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্র নিয়েও আশার বার্তা দিয়েছেন অর্জুন সিং। তিনি জানান, কামারহাটির প্রবর্তক জুটমিল এবং জগদ্দলের এআই চাঁপদানি জুটমিল-এর ফাইন ইয়ার্ন ইউনিট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা আরও কয়েকটি জুটমিল ধাপে ধাপে চালুর চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু পরিবহণ পরিষেবার উন্নয়ন নয়, শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং জুটশিল্পকে নতুন করে গতি দেওয়া। এই পরিকল্পনা সফল হলে উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলির শিল্পাঞ্চলে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ওয়াটার ট্যাক্সি, নতুন সরকারি বাস এবং বন্ধ শিল্প পুনরুজ্জীবনের এই ত্রিমুখী পরিকল্পনাকে রাজ্যের অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। এখন নজর, ঘোষণাগুলি কবে বাস্তবায়নের পথে এগোয় এবং সাধারণ মানুষ কবে থেকে এই পরিষেবার সুবিধা পেতে শুরু করেন।



