দুর্গাপুজোর চাঁদায় জোরজবরদস্তি? অভিযোগ জানাতে টোল-ফ্রি ও WhatsApp নম্বর চালু করল কলকাতা পুলিশ

দুর্গাপুজোর আগে জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ঠেকাতে কলকাতা পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ। লালবাজারের প্রকাশিত টোল-ফ্রি ও WhatsApp নম্বরে জানানো যাবে অভিযোগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুজোর আগে জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ব্যক্তি বা পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি বা আদায়ের ঘটনা ঘটলে সরাসরি পুলিশকে জানানো যাবে। এর জন্য একটি টোল-ফ্রি নম্বর এবং একটি WhatsApp নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—“জোর করে চাঁদা দাবি? নীরব থাকবেন না।” অর্থাৎ পুজোর চাঁদা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের চাপ বা জবরদস্তির অভিযোগ থাকলে তা গোপন না রেখে পুলিশকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—জোর করে চাঁদা দাবি বা আদায়ের ঘটনা ঘটলে নীরব না থেকে পুলিশকে জানান। অভিযোগ জানানোর জন্য টোল-ফ্রি ও WhatsApp নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।

দুর্গাপুজোর আগে জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ জানাতে কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তি
জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ জানাতে কলকাতা পুলিশের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি।

চাঁদার অভিযোগ জানাতে কলকাতা পুলিশের দেওয়া টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০-৩৪৫-৫৬৭৮। এছাড়াও WhatsApp নম্বর ৯৪৩২৬-২৪৩৬৫-এ অভিযোগ জানানো যাবে। পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক subscription বা chanda আদায়ের ঘটনা ঘটলে নাগরিকরা এই নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করতে পারেন।

পুজোর মরশুমে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদা সংগ্রহ শুরু হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা পুজো আয়োজনের স্বাভাবিক অংশ হলেও, চাঁদা দিতে চাপ দেওয়া বা জোর করার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই এবার আগেভাগে অভিযোগ জানানোর পথটি স্পষ্ট করে দিল কলকাতা পুলিশ।

লালবাজার সূত্রে, চাঁদা নিয়ে জোরজবরদস্তির অভিযোগ এলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা (Ajay Nanda) বুধবার শহরের বিভিন্ন থানার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে পুজোর মরশুমে জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এক্ষেত্রে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—এই নতুন হেল্পলাইন কলকাতা পুলিশ এলাকার জন্য। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র একই নম্বরে অভিযোগ করা যাবে, এমনটা এই বিজ্ঞপ্তি থেকে বলা যাচ্ছে না। কলকাতা শহরের মধ্যে জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ থাকলে লালবাজারের প্রকাশিত নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করা যাবে।

পুলিশের এই বার্তার তাৎপর্য দুর্গাপুজোর আগে আরও বেশি। উৎসবের সময়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুজো কমিটির চাঁদা সংগ্রহ, রাস্তা বা আবাসনে গিয়ে অনুদান চাওয়া কিংবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার মতো ঘটনা বাড়ে। স্বেচ্ছায় দেওয়া অনুদান এবং জোর করে টাকা আদায়ের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে মূলত সেই বিষয়টিই সামনে আনা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের জন্য তাই পুলিশের বার্তা সরল—চাঁদা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, আর জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ থাকলে নীরব থাকার প্রয়োজন নেই। অভিযোগ জানানোর জন্য সরাসরি ফোন বা WhatsApp-এর পথ খোলা রাখা হয়েছে।

পুজোর আগে কলকাতা পুলিশের এই উদ্যোগের ফলে চাঁদা সংগ্রহকে ঘিরে কোনও অভিযোগ হলে নাগরিকদের কাছে অন্তত নির্দিষ্ট যোগাযোগের জায়গা থাকল। তবে কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রকৃতি ও পুলিশের তদন্তের উপর নির্ভর করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন