লালকেল্লা বিস্ফোরণের পর হাই অ্যালার্ট কলকাতায়, রাজ্যজুড়ে তল্লাশি অভিযান জোরদার

দিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর নড়েচড়ে বসেছে গোটা দেশ। কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে কড়া নজরদারি ও নাকা চেকিং শুরু করেছে পুলিশ ও রেল সুরক্ষা বাহিনী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ (Red Fort Blast)-এর পর থেকেই গোটা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জারি হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। দেশের সমস্ত বড় শহরের মতোই হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে কলকাতা (Kolkata) ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও। সোমবার সন্ধ্যার ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন, আহত হয়েছেন ২৬ জনেরও বেশি। ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও রাজ্য পুলিশ প্রশাসন রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করেছে।

শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই শুরু হয়েছে নাকা চেকিং ও বিশেষ নজরদারি।
হাওড়া, শিয়ালদহ, নিউ জলপাইগুড়ি—রাজ্যের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনে RPF ও GRP যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। স্টেশনে প্রবেশ করা প্রতিটি গাড়ি ও যাত্রীর লাগেজ তল্লাশি করা হচ্ছে স্নিফার ডগের সাহায্যে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর, নিউ ফারাক্কা স্টেশন এবং শিলিগুড়ি জংশনেও চলছে একই রকম অভিযান।

হাওড়া ব্রিজ ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতেও চলছে নাকা চেকিং।
হাওড়া সিটি পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যস্ত মোড়ে তল্লাশি শুরু করেছে। ব্যারাকপুর কমিশনারেটের আওতায় নিউ ব্যারাকপুর, সোদপুর ও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সমস্ত জাতীয় ও রাজ্য সড়কে পুলিশের কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। গাড়িগুলো থামিয়ে একে একে পরীক্ষা করা হচ্ছে, সন্দেহজনক কোনও গতিবিধি দেখা গেলেই সঙ্গে সঙ্গে জেরা করা হচ্ছে যাত্রীদের।

রাজ্যের সীমান্ত এলাকা জুড়েও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BSF)। বাংলাদেশ ও নেপাল সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চলগুলোতে চলছে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি। কোনও বেআইনি অনুপ্রবেশ যাতে না ঘটে, সেই দিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও চলছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শিলিগুড়ি, কোচবিহার ও মালদহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ বাড়িয়েছে টহলদারি। তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস ও এনজেপি রেলস্টেশনে স্নিফার ডগের সাহায্যে চলছে লাগাতার তল্লাশি।

রবিবার ইডেনে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, ফলে নিরাপত্তার দিক থেকে আরও সতর্ক হয়েছে প্রশাসন। কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইডেন গার্ডেন্স ও আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। দর্শক, স্টাফ ও সরঞ্জাম—সবকিছুরই বহুস্তরীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লালকেল্লা বিস্ফোরণ ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে সব রাজ্যেই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। যেকোনও সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে। কলকাতাতেও শুরু হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের কাজ।

অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে “জননিরাপত্তা বজায় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপই সবচেয়ে জরুরি।” সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে পুলিশ বার্তা দিয়েছে—রাস্তায়, রেলস্টেশনে বা জনবহুল জায়গায় কোনও সন্দেহজনক বস্তু বা ব্যক্তিকে দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে।

এই মুহূর্তে রাজ্যের সর্বত্র কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। প্রশাসনের দাবি, আতঙ্ক নয়, সতর্কতাই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত