টানা ভারী বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত কলকাতা। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মাত্র কয়েক ঘণ্টায় শহরে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৪৭.৫ মিমি, জানাল হাওয়া অফিস। উত্তর থেকে দক্ষিণ—সব প্রান্তই কোমরজলে ডুবে গেছে। সল্টলেক, মানিকতলা, মুদিয়ালি—কোথাও রাস্তা দেখা যাচ্ছে না, শুধু জল আর জল। এই অতিবৃষ্টির জেরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাত জনের।
জনসুরক্ষা নিশ্চিত করতে ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন (সিইএসসি) জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সংস্থাটি জানিয়েছে, “একটানা বৃষ্টির ফলে জল জমে গেছে এবং নাগরিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। জল নামা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা থাকবে।”


সিইএসসি-র প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বেনিয়াপুকুর, পার্ক সার্কাস, বেলিয়াঘাটা, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট, কাঁকুরগাছির একাংশ, টালিগঞ্জ, বেহালা, এলগিন রোডসহ আরও কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। সংস্থাটি জানিয়েছে, কর্মীরা দিন-রাত কাজ করছেন পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
এই বৃষ্টির ফলে শুধু বিদ্যুৎ নয়, শহরের পরিবহন ব্যবস্থাও কার্যত থমকে গেছে। ট্রেন, মেট্রো—সবই ব্যাহত। রেল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, মুষলধারে বৃষ্টির কারণে হাওড়া স্টেশন ইয়ার্ড, শিয়ালদহ দক্ষিণ স্টেশন ইয়ার্ড, চিৎপুর উত্তর কেবিনসহ বিভিন্ন গাড়ি শেড ও ইয়ার্ডে জলমগ্ন অবস্থা। জল তোলার জন্য একাধিক জায়গায় পাম্প বসানো হয়েছে, কিন্তু সংলগ্ন সিভিল এলাকায় জল জমে যাওয়ায় বারবার পানি ফিরে আসছে রেলওয়ে ইয়ার্ডে।
মেট্রো পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। মহানায়ক উত্তম কুমার ও রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনের মাঝখানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে ময়দান স্টেশনের মধ্যে পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। মেট্রো রেলওয়ে জানিয়েছে, “জল সরানোর কাজ চলছে, কর্মীরা দ্রুত স্বাভাবিক পরিষেবা চালু করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।”


শহরবাসী মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে এমন বৃষ্টির মুখোমুখি হয়েছে কলকাতা। প্রতি বর্ষায় জলযন্ত্রণা থাকলেও, এবারের মতো রেকর্ড বৃষ্টি দীর্ঘদিন দেখা যায়নি। শহর এখন জলমগ্ন, বিদ্যুৎহীন এবং ব্যাহত পরিবহন ব্যবস্থায় বিপর্যস্ত জনজীবন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলযন্ত্রণা কমাতে শহরের ড্রেনেজ ও পরিকাঠামোর সংস্কার ছাড়া উপায় নেই। তবে আপাতত শহরবাসীর ভরসা সিইএসসি, রেল ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের তৎপরতা। জনসুরক্ষা ও পরিষেবা স্বাভাবিক করতে তারা দিনরাত কাজ চালাচ্ছেন।








