কলকাতায় ডিমের দাম বাড়ার প্রবণতা প্রতি বছরই শীতের দিকে দেখা যায়, তবে এ বছর ডিমের দাম সাধারণ সময়ের তুলনায় আগেই চড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে খুচরো বাজারে একটি ডিম কিনতে দিতে হচ্ছে ৮ টাকা, যা পুজোর সময় ছিল ৭ টাকা। ফলে প্রশ্ন উঠছে—শীত পুরোপুরি নামলে কি আরও বাড়বে কলকাতায় ডিমের দাম?
শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, হোলসেল এবং খুচরো—দুই ক্ষেত্রেই ডিমের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে। যদিও একাধিক দোকানে ২টি ডিম ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আবার ফুল ট্রে কিনলে দাম দাঁড়াচ্ছে ২১৫ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে। পুজোর পর থেকে এই দামও স্পষ্টতই বেশি।
ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের আগে থেকেই চাহিদা বৃদ্ধি দাম বাড়ার প্রধান কারণ। গড়িয়াহাট বাজারের এক বিক্রেতা জানান, শীতের আগে থেকেই ডিমের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। বাড়িতে ও বেকারিতে ব্যবহারের হার বেড়ে যাওয়ায় ডিমের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
বেকারি মালিকদের মতে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কেক উৎপাদনের চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছায়। এক বেকারি মালিক বলেন, নভেম্বরের শেষ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম ব্যবহার করতে হয়। ফলে এই সময় ডিমের দাম বাড়া স্বাভাবিক।
কলকাতা এগ অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, জোগানের ঘাটতি না থাকলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, যা সরাসরি দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, হায়দরাবাদ এবং পাঞ্জাবের বারবোলা থেকে পশ্চিমবঙ্গে যে ডিম আসে, তার পরিবহন ও পোলট্রির খরচ দুই-ই বেড়েছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পোলট্রি খাবার ও ওষুধের বাড়তি দাম। অর্থাৎ, জোগান স্বাভাবিক থাকলেও খরচ বাড়ায় বিক্রেতাদের লাভ কমে যাচ্ছে, ফলে খুচরো দাম বৃদ্ধিও অনিবার্য।
লেক মার্কেটের এক হোলসেল ব্যবসায়ী জানান, প্রতি বাক্সে ডিমের দাম ২০ থেকে ২২ টাকা বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, “এখনও খুচরো দাম বাড়াইনি, কিন্তু যদি হোলসেল একইভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে রিটেল দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।”
সব মিলিয়ে, শীতের শুরুতেই কলকাতায় ডিমের দাম বাড়ার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তা আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বড়দিন, পিকনিক এবং উৎসবের মৌসুম এগিয়ে আসায় চাহিদা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে, গ্রাহকদের জন্য ডিমের দাম কমার সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম।







