কলকাতায় ভূমিকম্প, কাঁপল দক্ষিণবঙ্গও, উৎসস্থল বাংলাদেশ! রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৫.৭

হঠাৎ কম্পনে কেঁপে উঠল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ—সকালবেলায় হুড়মুড় করে রাস্তায় নেমে এলেন মানুষ। উৎসস্থল নরসিংদীর কাছে, গভীরতা মাত্র ১০ কিমি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শুক্রবার সকালে আচমকা কলকাতায় ভূমিকম্প অনুভূত হতেই আতঙ্কে রাস্তায় নেমে এলেন বহু মানুষ। সকাল ১০টা ৮ মিনিট নাগাদ শহরে টের পাওয়া যায় কম্পন। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ—প্রায় গোটা রাজ্যেই অনুভূত হয় কাঁপন। মার্কিন USGS জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৭। উৎসস্থল বাংলাদেশের নরসিংদী থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে, ভূগর্ভে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।

শহরের বিভিন্ন অংশে কয়েক সেকেন্ড ধরে স্পষ্ট কম্পন অনুভূত হয়। অনেক বাড়িতেই সিলিং ফ্যান বন্ধ থাকায় কম্পন আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। কেউ দেখেছেন টেবিল নড়ছে, কারও ঘরের দেওয়ালে টাঙানো ছবি দুলে উঠেছে। কোথাও আবার জানলার কাচে পর্যন্ত কম্পনের কমনীয়তা দেখা যায়। ফলে মুহূর্তের মধ্যে কলকাতায় ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও অনুভূত হয়েছে কম্পন। নদিয়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার—সব জায়গা থেকে কম্পনের খবর এসেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা বড় বিপদের খবর মেলেনি। রাজ্যের বিপর্যয় দফতর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

কলকাতায় ভূমিকম্প, কাঁপল দক্ষিণবঙ্গও, উৎসস্থল বাংলাদেশ! রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৫.৭

বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে টের পাওয়া গেছে এই ভূমিকম্প। ঢাকায় বহু মানুষ ভয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। বরিশালসহ অন্যান্য জায়গাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে টের পাওয়া যায় কম্পন।

কলকাতায় ভূমিকম্প, কাঁপল দক্ষিণবঙ্গও, উৎসস্থল বাংলাদেশ! রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৫.৫
কলকাতায় ভূমিকম্প, কাঁপল দক্ষিণবঙ্গও, উৎসস্থল বাংলাদেশ! রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৫.৭

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎসস্থল যত অগভীর হয়, কম্পন তত তীব্রভাবে অনুভূত হয়। বাংলাদেশের নরসিংদীর এই ভূকম্পন উৎস ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ফলে, কলকাতার মতো অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী এলাকাতেও তার প্রভাব কম হয়নি। এই কারণেই কলকাতায় ভূমিকম্প এত তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

শহরের সাধারণ মানুষও এই হঠাৎ কম্পন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। কেউ সিলিং ফ্যান দুলতে থাকা ভিডিও শেয়ার করেছেন, কেউ বা বিল্ডিং থেকে নেমে আসা মানুষের ভিড় দেখিয়ে জানিয়েছেন মুহূর্তের আতঙ্কের অভিজ্ঞতা। অনেকেই লিখেছেন—মুহূর্তটাই এত দ্রুত ঘটেছে যে প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করা যায়নি।

কলকাতা সাধারণত ভূমিকম্পপ্রবণ শহর নয়। এই অঞ্চলে বড় কম্পনের ঘটনা বিরল। সাধারণত বাংলাদেশ বা উত্তর-পূর্ব ভারতের কোনও অঞ্চলে ভূমিকম্প হলে শহরে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। কিন্তু শুক্রবারের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। শহরের প্রায় সব প্রান্তেই স্পষ্ট কম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষের চিন্তা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, উৎসস্থলের অগভীর অবস্থান এই তীব্রতার জন্য দায়ী।

কলকাতায় ভূমিকম্প, কাঁপল দক্ষিণবঙ্গও, উৎসস্থল বাংলাদেশ! রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৫.৫
কলকাতায় ভূমিকম্প, কাঁপল দক্ষিণবঙ্গও, উৎসস্থল বাংলাদেশ! রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৫.৭

এই ঘটনার পর ভূকম্পবিদদের মতে, পূর্ব ভারতের মানুষের আরও বেশি সতর্ক হওয়া জরুরি। বাংলাদেশ, মেঘালয়, আসাম ও মিয়ানমার অঞ্চল ভূকম্পন-সংবেদনশীল। ফলে মাঝেমধ্যে এমন কম্পন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হওয়া গেছে, কলকাতায় ভূমিকম্প হলেও রাজ্যে কোনও বড় ধ্বংসের ঘটনা ঘটেনি।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সকল জেলা প্রশাসনকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা ফাটলের খবর মিললে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার ব্যবস্থা সক্রিয় করা হবে।

সব মিলিয়ে সকালবেলার এই আকস্মিক কম্পন আবারও মনে করিয়ে দিল, স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কখনোই পুরোপুরি অতীত হয় না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত