শুক্রবার সকাল আচমকাই কলকাতায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় শহর এবং দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। সকাল ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ টানা প্রায় ১৮ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। অফিস টাইমে এই কম্পন হওয়ায় বহু জায়গায় বহুতল খালি করে দেওয়া হয়, রাস্তায় নেমে আসেন কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ।
কলকাতায় ভূমিকম্প–এর পাশাপাশি কম্পন অনুভূত হয়েছে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং কাকদ্বীপ পর্যন্ত। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ—দুই অঞ্চলই কেঁপে ওঠায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।


১৮ সেকেন্ড কম্পন, অফিস-বহুতলে আতঙ্ক—মানুষ রাস্তায় নেমে এল
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের প্রথম ঝাঁকুনির পরই আবারও কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দ্বিতীয় কম্পন অনুভূত হয়। কিছু জায়গায় হালকা কম্পন হলেও কলকাতার বহু এলাকায় তা যথেষ্ট জোরাল ছিল।
অফিস সময় হওয়ায় বহু ভবনে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের বাইরে বেরিয়ে আসতে বলা হয়। বেসরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের সামনে তখন দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ভিড় দেখা যায়। হঠাৎ এই ঝাঁকুনিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কেও সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়।
কোলকাতায় ভুমিকম্প! রিখটার স্কেলে মাত্রা ৫.৭
প্রাথমিক সূত্র: রিখটার স্কেলে ৫.২, উৎসস্থল হতে পারে বাংলাদেশের ঘোরাশাল
অসমর্থিত ভূকম্পবিদ্যা সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতায় ভূমিকম্প–এর মাত্রা রিখটার স্কেলে সম্ভবত ৫.২-এর কাছাকাছি ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেন্দ্রস্থল হতে পারে বাংলাদেশের ঘোরাশাল এলাকা।


যদিও জাতীয় ভূকম্প কেন্দ্র এখনও অফিসিয়ালি এই তথ্য নিশ্চিত করেনি। ভূমিকম্পের গভীরতা ও উৎসস্থল নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা নয়, ভূকম্পবিদদের মতে, দক্ষিণবঙ্গের ভূগঠনের কারণে বাংলাদেশে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ঘটলে কলকাতায় তার কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
উত্তরবঙ্গে জোরাল কম্পন, কাঁপল শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি
দক্ষিণবঙ্গ ছাড়াও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জায়গায় যথেষ্ট জোরে কম্পন অনুভূত হয়েছে। শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির বাসিন্দারা বলছেন, বহু বাড়িতে ঝুলন্ত জিনিসপত্র দুলে ওঠে এবং জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে।
অনেকেই আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় দাঁড়ান। যদিও কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
কেন বারবার কেঁপে উঠছে বাংলা? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন
কলকাতায় ভূমিকম্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দাবি, বাংলাদেশ–ত্রিপুরা–মিয়ানমার সিসমিক বেল্টে প্রায়ই টেকটোনিক চাপ বাড়ে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ে পশ্চিমবঙ্গের ভূস্তরে। ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প সময় সময় বাংলায় অনুভূত হওয়াই স্বাভাবিক।
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, টানা ১৮ সেকেন্ড কম্পন মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। তাই উৎসস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, তবুও সতর্ক থাকার পরামর্শ
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল। তবে সিসমিক অ্যাক্টিভিটি বৃদ্ধি পেলে আরও কম্পন হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল। প্রশাসনের তরফেও সতর্কতা অবলম্বনের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
কলকাতায় ভূমিকম্প–এর বিষয়ে অফিসিয়াল রিপোর্ট প্রকাশিত হলে আরও তথ্য সামনে আসবে।








