পুজোর মরসুমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কী বাত’ ভাষণে বিশেষভাবে উঠে এল কলকাতার দুর্গাপুজোর ইউনেস্কো বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্বীকৃতি। বোধনের দিনেই সম্প্রচারিত ১২৬তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারের প্রয়াসেই এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার নয়, এই স্বীকৃতির কৃতিত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের।
মোদীর বক্তব্যে রাজনৈতিক মাত্রা যোগ হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে কৃতিত্ব নিয়ে দাবি-পাল্টা দাবির আবহ তৈরি হয়েছিল। পুজোর দিনেই মোদীর মন্তব্য সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।


ইউনেস্কো স্বীকৃতি ও কেন্দ্র–রাজ্য দ্বন্দ্ব
২০১৯ সালে UNESCO ‘Intangible Cultural Heritage’ হিসেবে কলকাতার দুর্গাপুজোর অন্তর্ভুক্তি দেশের সাংস্কৃতিক গর্ব বাড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও এই স্বীকৃতি পাওয়ার কৃতিত্ব দাবি করে এসেছে। কিন্তু মোদীর ‘মন কী বাত’-এ স্পষ্ট হয়ে গেল, প্রধানমন্ত্রী এই কৃতিত্ব ভাগ করে নিতে প্রস্তুত নন।
আরএসএস শতবর্ষ ও বিজয়া দশমীর প্রসঙ্গ
মোদী বলেন, “কিছু দিন পরই আমরা বিজয়া দশমী উদ্যাপন করব। এ বারের বিজয়া দশমী অন্য কারণেও বিশেষ। এই বিজয়া দশমীতে আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। ১০০ বছরের এই যাত্রা যেমন অদ্ভুত, অভূতপূর্ব, তেমনই প্রেরণাদায়ী।” হেডগেওয়ার ও গোলওয়ালকরের উল্লেখ করে তিনি আরএসএস-এর উদ্দেশ্য ও অবদানকে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, পুজোর সময়ে শুধু ধর্মীয় আচার নয়, সাংগঠনিক আদর্শের বার্তাও তিনি দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাইছেন।


ছটপূজা, ভোকাল ফর লোকাল ও দেশি পণ্য কেনার আহ্বান
ভাষণে ছট মহাপর্বকেও UNESCO বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি ফের ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর উপর জোর দেন।
মোদীর আহ্বান, আসন্ন গান্ধীজয়ন্তীতে প্রত্যেক দেশবাসী যেন অন্তত একটি খাদি সামগ্রী কেনেন। দেশি পণ্যের প্রতি উৎসাহ এবং জিএসটি ছাড়ের সুবিধা নিয়ে কেনাকাটার মাধ্যমে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার ডাক দেন তিনি।
জুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়েও শোকপ্রকাশ
ভাষণের একটি অংশে অসমের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর গান ও সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জুবিনের অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।
পুজোর আবহে মোদীর বার্তা
পুজোর মরসুমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কী বাত’-এর এই পর্ব যেন একাধারে সাংস্কৃতিক গর্ব, সাংগঠনিক ইতিহাস ও অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতার বার্তা দিল দেশবাসীর কাছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাষণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উভয় ক্ষেত্রেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে।







