কোহলি ও রুতুরাজের ঝলমলে জুটি ভারতকে বড় রান এনে দিয়েছিল। রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও কোহলির শতরান, দুই ইনিংস মিলিয়ে ভারতের স্কোরকে নিয়ে যায় ৩৫৮ রানে। ইনিংস বিরতিতে ব্যাটাররা আশায় ছিলেন, কিন্তু বোলারদের মুখে ছিল শঙ্কা। কারণ রায়পুরে শিশির পড়ার পূর্বাভাস ছিল ভয়াবহ। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে সেটাই প্রমাণিত হয়—শিশির বলারদের গ্রিপ কেড়ে নেয়, আর দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৫৯ রান তাড়া করে ফেলে মাত্র চার উইকেটে।
এই ম্যাচেই ফের সামনে আসে গম্ভীরের ভুল সিদ্ধান্ত, যার মূল্য দিতে হল ভারতকে। রুতুরাজ–কোহলি যখন জুটি জমিয়ে তুলছেন, তখন ভারতের স্কোর ৩৮০ পেরোনো সহজ ছিল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে ছ’নম্বরে পাঠানো হয় ওয়াশিংটন সুন্দরকে। জাডেজাকে নিচে রেখে এই সিদ্ধান্ত ব্যাটিং রিদমকে ভেঙে দেয়। ওয়াশিংটনের ধীর ব্যাটিংয়ের কারণে ভারতের রান তোলার হার এক ধাক্কায় কমে যায়। ২০–২৫ রান কম ওঠাই ম্যাচের ফল বদলে দেয়।
কোহলির শতরান ঢাকা পড়ল প্রোটিয়াদের ব্যাটের দাপটে, খারাপ ফিল্ডিংয়ে হারল ভারত
শুধু ব্যাটিং নয়, ম্যাচ জুড়ে ভারতের জঘন্য ফিল্ডিংও হার ডেকে আনে। একাধিক সহজ ক্যাচ, মিসফিল্ড, গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ের ভুল দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের সহজে রান করতে দিয়েছে। শিশির থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা সাহসী ব্যাটিং করে ম্যাচ দখল করে নেয়।
রোহিত শর্মা ও যশস্বী জয়সওয়াল আবার ব্যর্থ। শুভমন গিলের অনুপস্থিতিতে ওপেনিং করতে নেমে যশস্বী বারবার শর্ট বলের ফাঁদে পড়ছেন। রায়পুরে তিনি মার্কো জানসেনের বাউন্সারে ২২ রানে আউট হন। রোহিতও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তিনটি বাউন্ডারি মারার পরে অফ স্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা দিয়ে মাত্র ১৪ রানে আউট হন।
এই দিনেও ভারতের আশা হয়ে ওঠেন কোহলির শতরান—টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শতরান করে দেখিয়ে দেন তিনি কেন এখনো ভারতীয় ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ। ৯৩ বলে তাঁর ১০২ রানের ইনিংস ভারতকে স্থিতিশীল করে। দুইবার সহজ ক্যাচ ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডাররা তাঁকে জীবনদান করে। সেটিকে কাজে লাগিয়ে কোহলি নিজের ছন্দে শতরান পূর্ণ করেন।

রুতুরাজ গায়কোয়াড়ও দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। সুযোগ পেয়ে চার নম্বরে নেমে ৮৩ বলে ১০৫ রানের আগ্রাসী ইনিংস ভারতকে শক্ত ভিত দেয়। কোহলি–রুতুরাজ মিলে ১৫৬ বলে ১৯৫ রানের জুটি গড়েন। তাঁদের ইনিংস শেষ হওয়ার পরেই ব্যাটিংয়ে আসে কাঠিন্য।
ওয়াশিংটন সুন্দর ফের ব্যর্থ। রাঁচীতে পাঁচ নম্বরে ব্যর্থ হওয়ার পর রায়পুরে ছ’নম্বরে নেমেও ৮ বলে মাত্র ১ রান করেন। অকারণে রান নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি রান আউট হন। ফলে ইনিংসের গতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
ইনিংসের শেষ ভাগে আবার ভরসা দেন অধিনায়ক লোকেশ রাহুল ও জাডেজা। রাহুল আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করেন। পরপর দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচাশের গণ্ডি পার করেন তিনি। ৪৩ বলে তাঁর অপরাজিত ৬৬ রানে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৩৫৮। জাডেজা ২৪ রান করলেও বড় শট খেলতে সমস্যা হচ্ছিল তাঁর।
শিশির, ভুল কৌশল আর অনিয়ন্ত্রিত ফিল্ডিং—এই তিনে ভরাডুবি ভারতীয় দলের। রায়পুরে যা হল, বিশাখাপত্তনমে আর সেই ভুলের সুযোগ নেই। কারণ সিরিজ এখন সমতায়, আর শনিবারই ঠিক হবে কার হাতে উঠবে ট্রফি।







