কী ভাবে হত্যা করা হল খামেনেইকে? বিশদে জানালেন ট্রাম্প

খামেনেই নিহতের দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে চরম বিভ্রান্তি। ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে রহস্যময় পোস্টে জল্পনা তুঙ্গে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বিস্ফোরক মোড়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (৮৬) মার্কিন–ইজরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। তেহরান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তবে একই সঙ্গে সামনে এসেছে পরস্পরবিরোধী বার্তা—যা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিভ্রান্তি ও কূটনৈতিক উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সূত্রের দাবি, ইসলামি শাসনব্যবস্থা উৎখাতের লক্ষ্যে শুরু হওয়া বৃহৎ অভিযানের অংশ হিসেবেই শনিবার হামলা চালানো হয়। সেই হামলার জেরেই খামেনেই নিহত হয়েছেন। ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব-সহ একাধিক শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক নিহত হয়েছেন। তাঁরা খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সদস্য বলে পরিচিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করে দাবি করেছেন, “ইতিহাসের অন্যতম দুষ্ট মানুষ খামেনেই মৃত।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র প্রথম ধাপেই তেহরানের সুরক্ষিত কমপাউন্ডে মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তায় অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে টার্গেট করা হয় Ayatollah Ali Khamenei-কে। ট্রাম্পের দাবি, ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।

নিজের দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য নয়, বিশ্বজুড়ে খামেনেই ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের হাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যও ন্যায়বিচার। তিনি দাবি করেন, আইআরজিসি ও নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য লড়াই চালিয়ে যেতে অনিচ্ছুক এবং মার্কিন প্রশাসনের কাছে দায়মুক্তি চাইছেন। তাঁর সতর্কবার্তা—“এখন দায়মুক্তি পাওয়া সম্ভব, পরে শুধু মৃত্যু।” একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনে ‘নির্ভুল ও ভারী বোমাবর্ষণ’ অব্যাহত থাকবে।

কিন্তু ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। খামেনেইয়ের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে পার্সি ভাষায় একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পোস্ট হয়—“নামি হায়দারের নামে (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক)।” কোনও প্রেক্ষিত বা প্রমাণ ছাড়া করা এই পোস্ট ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। এটি কি পূর্বনির্ধারিত ‘ডেড ম্যান’স সুইচ’, না কি খামেনেই জীবিত থাকার ইঙ্গিত—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক তীব্র হয়েছে।

কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরকারি নিশ্চিতকরণ সত্ত্বেও স্বচ্ছ প্রমাণ প্রকাশ না হওয়ায় বিভ্রান্তি কাটছে না। অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ঘটনাটি যদি সত্যি হয়, তা হলে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রদবদল এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত