কলকাতার হৃদয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টায় বহুদিনের গোপন নাশকতার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারে ধরা পড়ল। খাগড়াগড় কাণ্ড–এর রেশ টেনে এবারও সামনে এল জেএমবি-র সক্রিয় নেটওয়ার্ক। ২০১৬ সালে কলকাতায় নাশকতার চেষ্টা–র ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহিতায় ৫ জেএমবি জঙ্গিকে দোষী সাব্যস্ত করল নগর দায়রা আদালত। এই মামলার সঙ্গে সরাসরি মিল পাওয়া গিয়েছে পূর্বে আলোচিত খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মডিউলের।
বিচারক রোহন সিনহার এজলাসে মঙ্গলবার দীর্ঘ শুনানির পরে আদালত জানায়, অভিযুক্ত ৬ জনের মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আজ, বুধবারই ঘোষণা হতে পারে সাজা। তদন্তকারী সংস্থা ও আইনজীবীরা মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে কলকাতা-কেন্দ্রিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
কলকাতায় নাশকতার ছক ফাঁস! দোষী সাব্যস্ত ৫ জেএমবি জঙ্গি
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের মধ্যে আব্দুল কলিম নামের এক ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস করা হয়েছে। তিনি খাগড়াগড় মামলার পুরনো সাজাপ্রাপ্ত হলেও এই বিশেষ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও সরাসরি যোগসূত্র প্রমাণিত হয়নি।
তবে যে পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে—সাহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, জাহিরুল ইসলাম, মহম্মদ রুবেল ও মৌলানা ইউসুফ শেখ—তাদের দাবি, সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। কিন্তু আদালতের নথিপত্র, জব্দ করা প্রমাণ এবং সাক্ষ্য তাদের পাল্টা যুক্তিকে দাঁড় করাতে পারেনি।
সময়কার সরকারি আইনজীবী জানান, ২০১৬ সালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশের STF অসম, বনগাঁ ও বসিরহাট থেকে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া যায় বিপজ্জনক বিস্ফোরক, জাল নথি এবং কলকাতার বিস্তারিত মানচিত্র—যা স্পষ্টভাবে একটি বড়সড় হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
তদন্তে উঠে আসে, জেএমবি-র এই মডিউল কলকাতাকে লক্ষ্য করে বিশেষ হামলার পরিকল্পনা করছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল ভিড়ভাট্টা এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন, যাতে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো যায়। তদন্তেদের দাবি, এই হামলা সফল হলে কলকাতা প্রায় দ্বিতীয় খাগড়াগড়ে কেঁপে উঠতে পারত।
মামলার বিচারপর্বে মোট ১৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং প্রচুর নথি জমা পড়েছে আদালতে। রাষ্ট্রদ্রোহিতা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিস্ফোরক আইন সহ একাধিক ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। আদালত সব প্রমাণ বিচার করে পাঁচজনকে দোষী বলে ঘোষণা করেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল—দোষী পাঁচজনের চারজন আগেই খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। এতে স্পষ্ট হয়, পুরনো জেএমবি নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয়ভাবে নতুন নামে-পরিচয়ে পুনর্গঠন করতে চাইছিল।
এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই নিরাপত্তা মহল আরও সতর্ক হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে জেএমবি-র মতো সংগঠনগুলি এখনও বাংলায় তাদের পদচিহ্ন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ গোয়েন্দা সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।







