কেমন আছেন কসবা কাণ্ডের নির্যাতিতা? মুখ খুললেন তাঁর বাবা

মনোজিৎ মিশ্রর বিরুদ্ধে তদন্তে মিলছে একের পর এক তথ্য, নির্যাতিতার পরিবার চাইছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কসবা ল কলেজ গণধর্ষণকাণ্ডে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রে টিএমসিপি নেতা মনোজিৎ মিশ্র। ঘটনায় অভিযুক্ত আরও দুই জন থাকলেও, তদন্তে যেভাবে তথ্য উঠে আসছে, তাতে মনোজিৎ-ই মূল ষড়যন্ত্রকারী বলে উঠে এসেছে।

কিন্তু যখন রাজ্যজুড়ে মনোজিৎকে নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন প্রশ্ন উঠছে—নির্যাতিতা ছাত্রী কেমন আছেন?

 ট্রমায় ভুগছেন নির্যাতিতা, পরিবার সরিয়ে রেখেছে গোপন স্থানেঃ
নির্যাতিতার বাবা এক ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে জানান—“মেয়েকে আমরা আপাতত এক গোপন জায়গায় পাঠিয়েছি। সে এখনও মানসিকভাবে ট্রমার মধ্যে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মেয়েকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগবে।

কেমন আছেন কসবা কাণ্ডের নির্যাতিতা? মুখ খুললেন তাঁর বাবা

কেমন আছেন কসবা কাণ্ডের নির্যাতিতা? মুখ খুললেন তাঁর বাবা
কেমন আছেন কসবা কাণ্ডের নির্যাতিতা? মুখ খুললেন তাঁর বাবা

 ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিলেন নির্যাতিতার আত্মীয়ঃ
নির্যাতিতার আঙ্কেল জানিয়েছেন,“২৫ জুন রাতে ও তার বাবাকে ফোন করে জানায় যে সে চরম সমস্যায় রয়েছে। তখনই আমরা ক্যাম্পাসে গিয়ে ওকে উদ্ধার করি।”

পরদিন বিকেল ৫টার দিকে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

নির্যাতিতার মা জানান, এর আগে কখনও মেয়ে তাকে বলেনি যে মনোজিৎ তাকে উত্যক্ত করেছে।

 সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেনসিক প্রমাণে অভিযুক্তদের ভূমিকা স্পষ্টঃ
তদন্তে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ থেকে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে—

  • ২৫ জুন বিকেল ৩:৩০ থেকে রাত ১০:৫০ পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টার ফুটেজে নির্যাতিতাকে জোর করে গার্ডের ঘরে ঢোকানো হয়।

  • সেখানেই তিন অভিযুক্ত যৌন নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ।

  • মোবাইলে রেকর্ড করা একটি দেড় মিনিটের ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

  • ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা রক্তের দাগ, হকিস্টিক ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছেন।

মেডিক্যাল রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণঃ
নির্যাতিতার মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী:

গলায় কামড়ের দাগ ছিল।

যৌনাঙ্গে ক্ষত ছিল।

শরীরের অন্যান্য অংশে মারধরের চিহ্ন ছিল।

এই তথ্যগুলো স্পষ্ট করে যে সে যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন।

 মনোজিতের অজুহাত: সম্মতিসূচক সম্পর্ক?
অভিযুক্ত মনোজিৎ দাবি করেছে, ছাত্রীর সম্মতিতেই সবকিছু হয়েছিল। তাঁর ভাষায়,“গলায় লাভবাইট তার সম্মতির ইঙ্গিত দেয়।”

তবে মেডিক্যাল ও ফরেনসিক রিপোর্ট তার দাবিকে পুরোপুরি ভ্রান্ত প্রমাণ করেছে বলে মত তদন্তকারীদের।

 পরিবারের দাবি: কঠিনতম শাস্তিঃ
নির্যাতিতার বাবা বলেন,“আমরা চাই দোষীদের কঠিনতম শাস্তি হোক। আমাদের মেয়ের জীবনের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা শুধু তার নয়—সমাজের প্রতিটি মেয়ের জন্য হুমকি।”

❓ FAQ:

প্রঃ কসবা গণধর্ষণ কবে ঘটে?
উঃ ২৫ জুন রাতে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে এই ঘটনা ঘটে।

প্রঃ নির্যাতিতার বর্তমান অবস্থা কেমন?
উঃ মানসিকভাবে এখনও ট্রমায় আছেন, তবে চিকিৎসা চলছে এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন।

প্রঃ কী কী প্রমাণ মিলেছে তদন্তে?
উঃ সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক আলামত, ভিডিও ক্লিপ এবং মেডিক্যাল রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

প্রঃ অভিযুক্ত মনোজিতের দাবি কী?
উঃ তার দাবি, সম্পর্ক সম্মতিসূচক ছিল। তবে তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত