অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে মানবিক উদ্যোগের নজির গড়লেন বলিউড অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান (Kartik Aaryan)। রাজ্যের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি অসম মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে (Assam Chief Minister’s Relief Fund) ১ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। অভিনেতার এই উদ্যোগের জন্য প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)।
কয়েকদিন বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও অসমের একাধিক প্রান্তিক এলাকায় এখনও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং আবহাওয়া দপ্তর নতুন করে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে এবং হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮। এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
এই কঠিন সময়ে কার্তিক আরিয়ানের আর্থিক সহায়তার কথা সামাজিক মাধ্যমে নিজেই জানান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এক্স (X)-এ তিনি অভিনেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, তাঁর এই উদার অনুদান বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, “আপনার এই উদার অনুদানে আমি সত্যিই আপ্লুত। আপনার এই সহযোগিতা অসমের মানুষের দুর্দিন কাটিয়ে উঠতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।” পাশাপাশি অসম সরকারের পক্ষ থেকেও কার্তিক আরিয়ানের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
সরকারি পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার জন্য অভিনেতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে। সময়োপযোগী এই সাহায্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলেও জানানো হয়েছে।
কার্তিক আরিয়ানের আগে অসমের বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন বলিউডের আরও একাধিক তারকা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সলমন খান (Salman Khan) ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি আলিয়া ভাট (Alia Bhatt) দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা (Ayushmann Khurrana) এবং তাঁর স্ত্রী তাহিরা কাশ্যপ (Tahira Kashyap)-ও বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন।
অসমে বন্যা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং বিনোদন জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ যত দ্রুত এগোবে, তত দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।



