নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু। তদন্ত চালিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্যের মুখোমুখি হয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, মানিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সরাসরি যোগ পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিপুল টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারীদের। এবার আরও এক নয়া মোড় কালীঘাটের কাকুর গল্পে।
আরও পড়ুন: পার্থর পথেই চলছেন কালীঘাটের কাকু? হাইকোর্টে প্রাক্তন মন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে আনল ED
ইডি সূত্রে খবর, কালীঘাটের কাকু কলকাতার লি রোডে মেয়ে জামাইকে আড়াই কোটি টাকার ফ্ল্যাট ‘উপহার’ দিয়েছিলেন। এছাড়া, তাঁর সংস্থা এস ডি কনসালট্যান্ট থেকে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থাকে প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি ২০১৮ সাল থেকে কাকুর আরও এক বেনামি সংস্থায় ৯৮ লক্ষ টাকারও বেশি জমা পড়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা কুন্তল ঘোষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল সুজয়কৃষ্ণের। জানা গিয়েছে, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং এই দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেই কুন্তল ঘোষকে ৩২৫ জনের চাকরি করে দেওয়ার কথা দিয়েছিলেন কালীঘাটের কাকু।

জানা যায়, ৩২৫ জনের চাকরি করে দেওয়ার জন্য ৭০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন কালীঘাটের কাকু। অন্যদিকে ৩২৫ জনের অ্যাডমিট কার্ড, প্রয়োজনীয় নথি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের কাছে গিয়েছিল। সবদিক খতিয়ে দেখছে ইডি।

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এক নামী প্রোমোটিং সংস্থার হদিশ পেয়েছে ইডি। অভিযুক্ত কালীঘাটের কাকুর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলেই দাবি গোয়েন্দা সংস্থার। কালীঘাটের কাকুর পাশাপাশি এস ডি কনসালটেন্সি,ওয়েল্থ উইজার্ড নামক দুটি সংস্থার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে। এই দুটি সুজয়কৃষ্ণের সংস্থা বলেই জানা গিয়েছে। তবে এস ডি কনসালটেন্সির মূল অংশীদার তিনি নিজেই এবং আরও একজন অংশীদার তাঁর জামাই। ২০২০ সালে দেড় লক্ষ টাকা করে লগ্নি করেছিলেন। একটি নথিতে দেখানো হয়েছে বিভিন্ন ক্রেতাদের কাছ থেকে তাঁদের ওই সংস্থা প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা আগাম নেওয়া হয়েছে।
পার্থ-কুন্তল-মানিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেদার দুর্নীতি, কালীঘাটের কাকুর গল্পে নয়া মোড়




