নজরবন্দি ব্যুরো: একের পর এক দুর্নীতিতে তোলপাড় বাংলা! কখনও শিক্ষক, কখনও গরুপাচার, কখনওবা কয়লা পাচারে। এখন রেশন দুর্নীতিও যুক্ত হয়েছে এই তালিকায়। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই বাংলার রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে মিলেছে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির যোগও। এহেন পরিস্থিতিতে দুর্নীতি মামলায় বিস্ফোরক দাবি করল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। আর এই দাবির জেরে নতুন করে শোরগোল ছড়িয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে।
আরও পড়ুন: জন্মদিনে অভিষেকের নামে মন্দিরে পুজো-যজ্ঞ, রাজ্যজুড়ে পোস্টার, শুভেচ্ছার ঢল অনুগামীদের


কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, লালুর পথেই হেঁটেছেন বালু। অর্থাৎ লালু প্রসাদের কায়দায় কমিশন নিতেই মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ইতিমধ্যেই রেশন দুর্নীতি কাণ্ডেও জমির বদলে চাল নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা। ইডির দাবি, চালকলের মালিকের থেকে কমিশন বাবদ জমি লিখিয়ে নিতেন বালু। তবে নিজের নামে সেই সম্পত্তি নেননি মন্ত্রী। বরং দানপত্র হিসেবে সেই জমি নিজে বাড়ির পরিচারকের নামে লিখিয়ে নিয়েছিলেন বালু। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নাকি ইডির হাতে তথ্যপ্রমাণ এসেছে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, যেই চালকলের মালিকের কাছ থেকে মন্ত্রী কমিশন বাবদ জমি নিয়েছিলেন, ইতিমধ্যেও সেই ব্যক্তির বয়ান নথিভুক্ত করেছে ইডি। পাশাপাশি সেই লেনদেন সংক্রান্ত নথিও বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। অন্যদিকে, রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে গত শনিবার ভোর থেকেই টানা তল্লাশি অভিযানে নেমেছেন ইডির গোয়েন্দারা। রাজ্যজুড়ে চাল কল, আটা কল, রেশন ব্যবসায়ী, একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযানে চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দার। এমনকি উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ায় একাধিক চালকল, উলুবেড়িয়ার মিলেও হানা দিয়েছে ইডি।



লালুর পথেই হেঁটেছেন বালুও, রেশন দুর্নীতিতে চাঞ্চল্যকর দাবি
কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দাদের দাবি, একটি নয় রাজ্য জুড়ে নাকি ১২ হাজার বাকিবুর থাকতে পারে। শুধু তাই নয়, ইডি আরও জানিয়েছে যে, ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজ্যের ১২ হাজারেরও বেশি ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, রেশন দোকানের মালিকের নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল। আর এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। আর দুর্নীতির আসল মাস্টারমাইন্ড মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নিজেই। পাশাপাশি ইডির দাবি, রাজ্যে যে পরিমাণের দুর্নীতি করা হয়েছে, তা খাদ্য দফতরের মদত ছাড়া করা অসম্ভব।








