এক মাসেরও বেশি সময় নীরব থাকার পর অবশেষে জ্যোতিকা (Jyotika) মুখ খুললেন ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party – CJP)-র নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলন নিয়ে। নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগ দাবি করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিজের পোস্টে জ্যোতিকা স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করুন। আমি দেশের ছাত্রছাত্রীদের পাশে আছি। আমি জবাবদিহির পক্ষে, গণতান্ত্রিক ভারতের পক্ষে এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে।” তাঁর এই মন্তব্য এমন সময় সামনে এল, যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
পোস্টে জ্যোতিকা আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk), অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) এবং সৌরভ দাস (Saurav Das)-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, একজন মা হিসেবে তিনি চান ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁদের মতো আদর্শ থেকে শিক্ষা নিক। একই সঙ্গে Gen Z-র সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই প্রজন্ম প্রমাণ করেছে ঐক্যবদ্ধ ভারতই দেশের আসল শক্তি।
অভিনেত্রীর মতে, এই আন্দোলন তরুণ প্রজন্মকে ভয় কাটিয়ে প্রতিবাদ করার সাহস জুগিয়েছে। তিনি CJP-কে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, এই আন্দোলন বহু মানুষের নীরবতা ভেঙে দিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের নতুন বার্তা দিয়েছে।
জ্যোতিকার এই অবস্থান সামনে আসার কয়েক দিন আগেই তাঁর স্বামী অভিনেতা সূর্য (Suriya)-র অনুরাগী সংগঠন একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিল। সেখানে জানানো হয়, ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে নিজের জন্মদিন উদযাপন না করার অনুরোধ করেছিলেন সূর্য। তাঁর আবেদন ছিল, উদযাপনের বদলে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দাবি এবং উদ্বেগের বিষয়গুলিকেই গুরুত্ব দেওয়া হোক।
এর আগে দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের আরও কয়েকজন পরিচিত অভিনেতা, যেমন প্রকাশ রাজ (Prakash Raj) এবং কমল হাসান (Kamal Haasan), এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁস-এর পর শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে CJP-র নেতৃত্বে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। গত ২৮ জুন আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক, যিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন। পরে বৃহস্পতিবার সেই অনশন প্রত্যাহার করা হয়। এরই মধ্যে জ্যোতিকার প্রকাশ্য সমর্থন আন্দোলনের রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।



