জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে সোমবার গভীর রাতে আঘাত হানা ম্যাগনিটিউড ৭.৬ শক্তির ভূমিকম্প ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্পের কয়েক মিনিট পরই সুনামি সতর্কতা জারি করে দেশটির আবহাওয়া দফতর (JMA)। সতর্কতায় বলা হয়েছে, ইওয়াতে, আওমোরি এবং হোক্কাইডোর বেশ কয়েকটি উপকূলীয় অঞ্চলে ৩ মিটার পর্যন্ত ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
ইতিমধ্যেই আওমোরি এবং হোক্কাইডোতে ৪০ সেন্টিমিটার (১৬ ইঞ্চি) উচ্চতার ঢেউ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে JMA। সাগরের আচরণ দেখে প্রশাসন মনে করছে পরিস্থিতি আরও দ্রুত বদলাতে পারে।


ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় রাত ১১.১৫ মিনিটে অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ দফতর (USGS) জানায়, কেন্দ্রস্থল ছিল উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ৩৩ মাইল। CNN তার প্রতিবেদনে লিখেছে, টোকিওতে স্থিত CNN-র টিমও ৩০ সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছে।

জাপানের মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিব মিনোরু কিহারা মানুষকে সতর্ক করে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলগুলির বাসিন্দাদের অবিলম্বে উচ্চভূমিতে চলে যেতে হবে অথবা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে অবস্থান করতে হবে।
তিনি আরও জানান, হিগাশিদোরি এবং অনাগাওয়া পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে আপাতত কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি, তবে দেশের অন্য সব পারমাণবিক স্থাপনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।


নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, যিনি অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, বলেন—সরকার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট সংগ্রহ করছে এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। “মানবজীবনই আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার,”—স্পষ্ট বার্তা তাঁর।
জাপান ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল রিং অফ ফায়ার-এ অবস্থিত, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উৎপাত সাধারণ ঘটনা। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প ছিল ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্প, যার তীব্রতা ছিল ৯.১ মাত্রা; সুনামি এবং পারমাণবিক বিপর্যয়ে সেই সময় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
এ দিনের ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।









